প্রাচীন যুগের ২ টি ভয়ঙ্কর মৃত্যু

   

আধুনিক যুগে ফাসি দিয়ে মৃত্যুদন্ড ব্যবস্থাটাই সবদেশে প্রচলিত। কিন্ত প্রাচীনকালে কিছু কিছু দেশে নিয়ম ছিল, যতটা সম্ভব কষ্ট দিয়ে মানুষকে মারা যায় তার চেষ্টা করা। এজন্য আবিষ্কৃত হয়েছে মানুষ হত্যার ভয়ংকর সব উপায়। সে রকমই ২ টি ভয়ঙ্কর মৃত্যুদন্ড নিয়ে আলোচনা করা হলো আজ।

প্রাচীন গ্রীক যন্ত্রকৌশলীদের আবিষ্কার এই ব্রাজেন বুল। এটি আসলে একটি পিতলের তৈরী ষাড়। এর পেটের দিকটা ফাপা। পিঠের উপর একটা ঢাকনা থাকে। এই ঢাকনা দিয়ে অপরাধীকে পেটের ভিতরে ঢুকানো হয়। এরপর ঢাকনা বন্ধ করে পেটের নিচে আগুন দেয়া হয়। আগুনের আচে পিতল উত্তপ্ত হতে থাকে। ভেতরে থাকা মানুষটি উত্তাপে সিদ্ধ হয়ে একসময় মারা যায়।
ব্রাজেন বুলের আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল। বিশেষ মেকানিজমের কারণে, অপরাধীর আর্তনাদ বাইরে বেরোনোর সময় অনেকটা ষাড়ের আওয়াজে পরিণত হত। প্রাচীণ গ্রীসে খোলা ময়দানে ব্রাজেন বুলে উৎসব মুখরভাবে মানুষ মারা হত। এইদিন অতিথিরা ব্রাজেন বুলে অপরাধীর আর্তনাদ শুনতে শুনতে ভোজ সভায় অংশ নিতেন।

১৬ শতকে ডাচ বিদ্রোহের সময় এই পদ্ধতির কার্যকরভাবে ব্যাবহার শুরু হয় ডাচ নেতা দাদরিক সনয় এর হাত ধরে। এই পদ্ধতিতে আসামী বা অপরাধীকে উলঙ্গ করে একটা কুঠুরিতে শিকল দিয়ে বেধে রাখা হত। কুঠুরির ভেতরে ক্ষুধার্ত ইদুর ছেড়ে দেয়া হত। এক পর্যায়ে ইদুরগুলো ভিক্টিমের মাংস কুরে কুরে খেতে শুরু করত। এক পর্যায়ে মাংসে পচন ধরে বা রক্তপাতে অপরাধী মারা যেত। মৃত্যুটি ছিল খুবই ভয়ঙ্কর কারন এই ধরনের মৃত্যুতে সময় লাগত প্রায় এক থেকে দুই সপ্তাহ, অপরাধীরা ধীরে ধীরে এই নারকীয় যন্ত্রণা ভোগ করার পর মারা যেত।

Facebook Comments