মহাভারতের ১১টি নারী চরিত্রে ১১জন রূপান্তরকামী

   

প্রতীপ হালদার

রূপান্তরকামী আইনজীবী ও নৃত্যশিল্পী মেঘ সায়ন্তনী ঘোষের সংস্থা ‘রুদ্রপলাশ’ বিগত সাত বছর ধরে প্রখ্যাত পরিচালক ও লেখক ঋতুপর্ণ ঘোষের স্মরণে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান করে আসছে। তারা কখনও মঞ্চস্থ করেছেন দশমহাবিদ্যা, কখনও চিত্রাঙ্গদা। তাদের এবারের প্রস্তুতি এক্কেবারে অন্যরকম। এবার রূপান্তরকামী নারীদের দ্বারা প্রথমবার মঞ্চস্থ হতে চলেছে মহাকাব্য মহাভারত। দ্রৌপদী, কুন্তী, উত্তরা, সুভদ্রার মতো মহাভারতের ১১টি নারী চরিত্র ফুটিয়ে তুলবেন ১১ জন রূপান্তরকামী নারী। এক অন্যরকম মহাভারত দেখবে শহর কলকাতা, এমনই প্রত্যাশা সকলের। আর মহাভারতের গল্পের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হবে রূপান্তকামীদের জীবনসংগ্রাম।

এই প্রসঙ্গে সায়ন্তনী বলেন, ‘ঋতুপর্ণ ঘোষ আমাদের মতো মানুষদের কাছে একটা অনুপ্রেরণার নাম। একটা দিগন্ত বিস্তৃত স্পর্ধার নাম। তাঁকে মনে রেখেই আমাদের সংগঠন রুদ্রপলাশ তৈরি হয়েছিল। আর এই রুদ্রপলাশ থেকেই আমরা প্রতি বছর ঋতু-উৎসব করি। এবছর যেমন আমরা রূপান্তরকামীরা মহাভারত উপস্থাপন করবো। শুধু রূপান্তরকামীরা মহাভারত মঞ্চস্থ করবে এমনটা ভারতে এই প্রথমবার হবে।’ পূর্বের বছরগুলোতে উপস্থাপন করা ‘দশমহাবিদ্যা’ বা ‘চিত্রাঙ্গদা’ দর্শককের প্রশংসা পেয়েছে। মহাভারত নিয়েও বেশ আশাবাদী সায়ন্তনী। সায়ন্তনী বলেন প্রতি বছর এই অনুষ্ঠান করার উদ্দেশ্য থাকে রূপান্তকামীদের সমাজের মূল স্রোতে ফেরানো।

রুদ্রপলাশ সংস্থাটির এবারের ঋতু উৎসবের ভাবনাটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মহা-মানবী’। সমগ্র অনুষ্ঠানটির ভাবনা ও নৃত্যপরিকল্পনা মেঘ সায়ন্তনী ঘোষের। ভাষ্য রচনা করেছেন ভাস্বতী দত্ত। সহায়তায় রয়েছে চারুচন্দ্র কলেজের এনএসএস ডিপার্টমেন্ট। আগামী ৩রা সেপ্টেম্বর আইসিসিআর পেক্ষাগৃহে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বাংলার অনেক বিশিষ্টজনই।  

Facebook Comments