কলকাতায় মাসুদ পথিকের ছবি ও কবিতা নিয়ে একটি আলোচনা সন্ধে, ‘ছবির দেশে কবিতার দেশে’

   

বৈশাখী নার্গিস

বাংলাদেশের জাতীয় পুরষ্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্রকার ও বিশিষ্ট কবি মাসুদ পথিককে নিয়ে গত ৫ই এপ্রিল ‘ছবির দেশে কবিতার দেশে’- শীর্ষক একটি আলোচনা সন্ধে ও একক কবিতা পাঠের আয়োজন করেছিল সাউথ এশিয়ান লিটারারি ফোরাম। কলকাতার সাংস্কৃতিক পীঠস্থান ঐতিহ্যবাহী কফিহাউসের দ্বিতলে ‘বইচিত্র’ সভাঘরে আয়োজিত হয় এই অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি মৃদুল দাশগুপ্ত, কবি রামকিশোর ভট্টাচার্য, কবি তন্ময় চক্রবর্তী, কবি অলোক বিশ্বাস, কবি বিভাস রায়চৌধুরী সহ অনেক বিশিষ্টজনেরাই।

আলোচনায় কবি মৃদুল দাশগুপ্তের বক্তব্যে উঠে এলো দুই বাংলার সাম্প্রতিক কবিতার অভিমুখ। নিবিড়ভাবে ধরা দিল দেশ কালের গণ্ডি ডিঙিয়ে এক আন্তর্জাতিক ছবি। মাসুদ পথিকের হৃদয়গ্রাহী ‘চাষার পুত’- বইয়ের কবিতা শুনতে শুনতে সভায় উপস্থিত প্রত্যেকেই নস্টালজিক হয়ে উঠলেন। চোখের সামনে ভেসে উঠলো এক অখণ্ড বাংলা।

কথা-সমন্বয়ে এবং অনুষ্ঠানকে সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করলেন কবি কিশোর ঘোষ, কবি সৈকত ঘোষ এবং কবি তন্ময় মণ্ডল। অনুষ্ঠানটিতে মনোগ্রাহী আবৃত্তি পরিবেষণ করেন সৌম্যশ্রী গাঙ্গুলি, কল্পিতা দাস, মঞ্জিমা সরকার, বিশ্বজিৎ ভৌমিক, দেবপ্রিয়া মুখোপাধ্যায়রা। একের পর এক কবিতা ও সিনেমা তৈরির অভিজ্ঞতার গল্পে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রাখলেন মাসুদ পথিক। কখনও ছোটবেলার স্মৃতি কখনও এক কিশোরীর অকাল মৃত্যু উঠে এল কবিতায়। কবিতা ও সিনেমা নিয়ে তাঁর বক্তব্য মুগ্ধ করেছে দর্শকদের।

এদিনের আলোচনাসভায় কবি রামকিশোর ভট্টাচার্য, কবি তন্ময় চক্রবর্তী এবং কবি অলোক বিশ্বাসের কথায় উঠে এল বাংলা কবিতার বর্তমান ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য রূপরেখা। পুরো অনুষ্ঠানটি ক্যামেরায় ধরে রাখলো টেক টাচ এন্টারটেইনমেন্ট। সাউথ এশিয়ান লিটারারি ফোরামের পক্ষ থেকে প্রতীপ হালদার বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ার সব কটি দেশের শিল্প-সাহিত্যের আদান-প্রদান আমাদের লক্ষ্য। শুধু দক্ষিণ এশিয়া কেন সারা পৃথিবীর সাহিত্যকে একসূত্রে বাধার প্রয়াসেই আমাদের এই সংগঠন।”

কাঁটাতার অনেক কিছু কেড়ে নিলেও বাঙালির আড্ডা আর নস্টালজিয়াকে কেড়ে নিতে পারেনি। আরও একবার প্রমাণিত হল ভাষা আর সংস্কৃতিকে কখনও কাঁটাতার দিয়ে আটকে রাখা যায় না। বাঙালির ঐতিহ্য কফি হাউসের দোতলায় বইচিত্র সভাঘরে গঙ্গার সঙ্গে মিশে গেল পদ্মা।

Facebook Comments