এক ট্রান্সজেন্ডার মায়ের মাতৃত্বের গল্প ‘উত্থান’

   

দেবস্মিতা দত্ত

সম্প্রতি ইউটিউবে মুক্তি পেলো একটি ভিন্নধর্মী স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘উত্থান- এ নিউ বিগিনিং’। Shocked Entertainment প্রযোজিত এই ছবির কাহিনি, পরিকল্পনা ও নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন সৌভিক দে। এই ছবির চরিত্র চিত্রায়ন, ভাবনা ও পরিকল্পনা চমকে দেওয়ার মতই। ছবিটি মূলত জীবন সংগ্রামের গল্প, বারবার হেরে গিয়েও উঠে দাঁড়াবার গল্প। তবে এ গল্প আর পাঁচটা গল্পের থেকে একেবারে আলাদা।

ট্রান্সজেন্ডারদের নিয়ে কাজ এখন অনেক হচ্ছে। ধীরে ধীরে তারা তাদের অধিকার আদায় করে নিচ্ছেন এই অসম লড়াইয়ের সমাজব্যবস্থায়। এই ছবিটিতে ট্রান্সজেন্ডার চরিত্রের চিত্রায়ন দেখা গেলেও তা একেবারেই অন্য আঙ্গিকে। একদিক থেকে বলা যেতে পারে এই ছবিটি এক ট্রান্সজেন্ডারের মাতৃত্বের গল্প। তার ভেতরেও যে মা আছে, সেই মায়ের মমতার গল্প, স্নেহের গল্প। অন্যদিকে এই গল্পেই সমাজে নাবালিকাদের নিরাপত্তাহীনতাও প্রকট হয়ে উঠেছে।

For more updates follow Us on facebook :


ছবিটির কাহিনীর দিকে চোখ রাখলে দেখা যায় একদম প্রথমেই একটি নাবালিকা গণধর্ষনের শিকার হয়। এরপর তাকে আনা হয়েছে এমন একটি বাড়িতে যেখানে কয়েকজন ট্রান্সজেন্ডার থাকেন। সেখানেই একজন ট্রান্সজেন্ডার মীনা, নাবালিকা মুন্নীকে মাতৃস্নেহে আগলে রাখতে থাকে, তাকে সুস্থ করে তুলতে চেষ্টা করে। এই মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেঘ সায়ন্তনী ঘোষ, যিনি ভারতের প্রথম ট্রান্সজেন্ডার আইনজীবী। এই চরিত্রে সায়ন্তনীর সাবলীল, অনবদ্য অভিনয় দেখার পর যে কোনও অনুভূতিশীল মানুষের চোখে জল আসতে বাধ্য। আর সায়ন্তনী যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন সেই চরিত্রটি অর্থাৎ মীনা নামক এক ট্রান্সজেন্ডার, যে মাতৃস্নেহে গনধর্ষিত হওয়া বাচ্চা মেয়েটিকে আগলে রাখতে চাইছে সেটিই বলতে গেলে কাহিনীর কেন্দ্রীয় চরিত্র। তার ওপর ভিত্তি করেই গল্প এগিয়েছে। সেখানে মেঘ সায়ন্তনীর অভিনয় সত্যি ব্যক্তিগত জীবনে আইনজীবী, নৃত্যশিল্পী সায়ন্তনীকে অন্যভাবে চিনিয়েছে। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অবশ্য সায়ন্তনী বেশ কয়েকটি সেরা পুরস্কারও পেয়েছেন।

যাই হোক মাতৃস্নেহে যখন মীনা, মুন্নীকে আগলে রেখেছে, তাকে সুস্থ করে তুলতে চাইছে এমনই সময় একদিন মুন্নী তার আসল মাকে দেখে। দেখে ট্যাক্সির পিছনে দৌড়াতে শুরু হয়ে। সে খবর মীনা পাওয়ার পর সে এই রাস্তায়, সেই রাস্তায় মুন্নীকে খুঁজে বেড়াতে থাকে। ট্রান্সজেন্ডার মায়ের ভেতরও যে মমতার আস্ফালন কতখানি দৃঢ় হতে পারে তা শেষ দৃশ্যে অনবদ্যভাবে তুলে ধরেছেন পরিচালক।

এই গল্প যেমন মাতৃত্বের গল্প তেমনই দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর ঘুরে দাড়ানোর বার্তাও দেয় এই ছবি। ছবিটিতে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন জগমোহন সিং, গান গেয়েছেন নীলাঞ্জন ব্যনার্জী।

মুন্নীর চরিত্রে চন্দ্রানী দাসের অভিনয় ভালো লেগেছে। গুরুমা-র চরিত্রে রঞ্জিতা সিংহ, ডাক্তারের চরিত্রে সুমিত ভট্টাচার্য সহ বাকী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের অভিনয়দক্ষতা ও উপস্থাপনা ভালো লাগার মতোই। সবশেষে পরিচালকের দৃষিকোণ ও অভিনব প্লট নির্বাচনকে সাধুবাদ জানাতেই হয়।

Facebook Comments