ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের ইতিহাস

   

অভিষেক নস্কর

প্রজাতন্ত্র হল এমন একটি সরকারি ব্যবস্থা যেখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ভোগ করে থাকে জনগণ  বা জণগণের এক অংশ। এই ব্যবস্থাতে কোন রাজা বা রাণীর অস্তিত্ব নেই। তবে ইংরেজী ভাষায় ‘প্রজাতন্ত্র’ শব্দের প্রতিশব্দ হল ‘REPUBLIC’ এটি এসেছে লাতিন শব্দবন্ধ ‘RESPUBLICA’ শব্দবন্ধটি থেকে,  এর আক্ষরিক অর্থ জনগণ সংক্রান্ত একটি বিষয়। সারা বিশ্বের মধ্যে বিভিন্ন রাষ্ট্রে প্রজাতন্ত্র সরকার বর্তমান। তবে প্রজাতন্ত্র সরকারী ব্যবস্থাও কিন্তু ভারতে রয়েছে। এই প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গেলে অতীতের ইতিহাস তুলে ধরা প্রয়োজন। ১৮৫৮ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশ ছিল ব্রিটিশ রাজশক্তির প্রত্যক্ষ শাসনাধীনে। এইসময় থেকে বিদেশি শাসকদের হাত থেকে মুক্ত করতে এক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর ১৯৪৭ এর ১৫ আগষ্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। এবং জাতীয় উপমহাদেশে ভারত (INDIA) এবং পাকিস্তান (PAKISTAN) নামে দুটি স্বাধীন  রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটে। কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হওয়ার ফলে জাতিগত সমস্যা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেশে দেখা দেয়। এর ফলে ভারতকে নানা সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়।  ভারতের সামাজিক,  রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে চরম পর্যায় পৌঁছে যায়।  ঠিক এইসময়ে ভারতে প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত ভারতকে সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্য এবং দেশ ও জাতির মুক্তির কামনার উদ্দেশ্য শুরু হয় নানা গঠনমৃলক কাজ। এই ভাবে গণপরিষদ ও সংবিধানের কাজ। এই সঙ্গে সূচনা হল  প্রজাতন্ত্রের সুত্রপাত।

গণপরিষদের সুচনা :- পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি একটি নির্দিষ্ট সংবিধানের দ্বারা পরিচালিত হয়। কারণ সংবিধানই হল একটি দেশের পরিচালনার অপরিহার্য অঙ্গ বিশেষ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই সংবিধান রচনা করে থাকে। তবে সমগ্র দেশবাসীর পক্ষে সংবিধান রচনার কাজে প্রত্যক্ষ ভাবে অংশগ্রহণ সম্ভব নয়।  তাই এই সংবিধান রচনার কাজ একটি  সংস্থা করে থাকে। আর এই সংস্থাই দেশবাসী হয়ে সংবিধান রচনা করে। 
গণপরিষদের গঠনের চারটি মূলনীতি:- গণপরিষদের গঠনের চারটি মূলনীতি ছিল। ঠিক হয়েছিল যে,  গণপরিষদের যেসব সদস্য হবেন,  তারা প্রাদেশিক আইণ সভার সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবে। অর্থাৎ  ক্যাবিনেট মিশনের সুপারিশ চারটি মূলনীতি ওপর ভিত্তি করে ভারতীয় গণপরিষদ ব্যবস্থা করা হয়।  
১, ব্রিটিশ শাসিত প্রদেশ ও দেশীয় রাজ্য গুলি তাদের জনসংখ্যার অনুপাত হিসাবে গণপরিষদে আসন পাবে।
২, গণপরিষদের সফল আসন সাধারণ (অ-মুসলিম ও অ-শিখ) অর্থাৎ  হিন্দু , মুসলমান ও শিখ এই তিনটি সম্প্রদায়ের মধ্যে আনুপাতিক ভাগ হবে।
৩, প্রাদেশিক আইণ সভার প্রতিটি সম্প্রদায়ের একক হস্তান্তর যোগ্য সমানুপাতিক ভোটাধিকার ভিত্তিতে নিজ নিজ সম্প্রদায় প্রতিনিধি দের নির্বাচিত  করবে। 
৪,  দেশীয় রাজ্যগুলিতে ৯৩ জন প্রতিনিধি পাঠাবে, পরে আলোচনা মাধ্যমে ঠিক হয় যে, দেশীয় রাজ্যের অর্ধেক প্রতিনিধি নির্বাচিত  দ্বারা এবং অর্ধেক প্রতিনিধি মনোনয়নের দ্বারা স্থির করবে।আর মন্ত্রীমিশন অনুযায়ী ঠিক হয় যে, গণপরিষদে মোট ৩৮৯ জন সদস্য থাকবে।  এর মধ্যে ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চল প্রদেশ থেকে ২৯২ জন,  চিফ কমিশনার শাসিত প্রদেশ গুলি থেকে ৪ জন।  এবং দেশীয় রাজ্য গুলি থেকে ৯৩ জন প্রতিনিধিত্ব করবে। গণপরিষদের গঠন:-  ১৯৪৬ সালে জুলাই মাসে দিকে গণপরিষদের নির্বাচন কার্য অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনমন্ডলী  ছিলেন প্রাদেশিক  আইনসভার সদস্যরা।  গণপরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৮৯জন।  এর মধ্যে দেশীয় রাজ্যের প্রতিনিধি সংখ্যা ৯৩ জন। ২৯৬ টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ২০৮ টি আসন, মুসলিম লিগ ৭৮টি আসন লাভ করে। এর ফলে দেখা যাচ্ছে কংগ্রেস বেশীরভাগ আসন লাভ করে। এই গণপরিষদের বহু বিশিষ্ট ব্যাক্তিগণ সদস্য রূপে নির্বাচিত হন।
তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন :- সর্দার বল্লব ভাই প্যাটেল, জওহরলাল নেহরু, ড. বি. আর.  আম্বেদকর,  মৌলানা আবদুল কালাম আজাদ, চক্রবর্তী রাজা গোপালাচারী, ড. রাধাকৃষ্ণাণ,  কে. এম. মুন্সি প্রমুখ। তবে সংবিধান রচনা ও গণপরিষদের পরিচালনার মূল কর্তৃত্ব ছিল চারজনের হাতে। তাঁরা হলেন :- সর্দার বল্লবভাই প্যাটেল, জওহরলাল নেহরু,  মৌলানা আবদুল কালাম আজাদ ও ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।  খসড়া সংবিধানের প্রনয়নের একক কর্তৃত্ব ছিল ড. বি. আর আম্বেদকর।
গণপরিষদের মূল লক্ষ্য :- শুধুমাত্র স্বাধীনতা অর্জনের জন্য গণপরিষদ নয়।  লক্ষ্য হল আর্থসামজিক ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাই প্রতিটি জাতির মূল লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য পৌঁছাবার জন্য প্রয়োজন বহিশত্রু নিয়ন্ত্রণমুক্ত পূর্ণ স্বাধীনতা। ভারতীয় গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল স্বাধীন ভারতে সামাজিক,  অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর রূপরেখা করা।  এই প্রসঙ্গে জওহরলাল নেহরু বলেন ” গণপরিষদের প্রধান কাজ হবে একটি নতুন সংবিধান প্রনয়নের মাধ্যমে ভারত কে স্বাধীন করা,  ক্ষুদ্ধার্ত মানুষেরমুখে দুইমুঠো অন্ন,  বস্ত্রহীন কে বস্ত্র, এবং প্রতিটি ভারতবাসীকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী আত্নবিকাশের সুবিধা প্রদান করা”। ড. সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণাণ বলেন ” একটি সামজিক অথনৈতিক বিপ্লবসাধনই গণপরিষদের মূল লক্ষ্য।
সংবিধান রচনা :- ১৯৪৬ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল। কিন্তু প্রথম অধিবেশনে মুসলিম লিগের প্রতিনিধিরা যোগদান করেনি। তাদের অনুপস্থিতিতে ২০৭  জন প্রতিনিধি নিয়ে কাজ শুরু করে।বিশিষ্ট কংগ্রেস সভাপতি জে বি কৃপালিনীর প্রস্তাবে ড. সচ্চিদানন্দ সিংহকে গণপরিষদের অস্থায়ী সভাপতি করে কাজ শুরু করেন।তারপরে ১১ ই ডিসেম্বরে গণপরিষদের স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত করেন।এরপরে ১৩ ই ডিসেম্বর জওহরলাল নেহরু ভারতীয় সংবিধানের “লক্ষ্যমূলক প্রস্তাব”  উথাপন করে ভারতকে ” স্বাধীন সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র বলে অভিহিত করেন। এরমধ্যে ১৯৪৭ সালে ১৫ আগষ্ট ভারত স্বাধীন হয়ে যায়। এবং ২৯ আগষ্ট সংবিধান রচনার জন্য “খসড়া কমিটি ” (DRAFTING COMMITTEE)  গঠন হয়। এই কমিটি সভাপতি ছিলেন ড. বি. আর আম্বেদকর।  কমিটি সদস্য ছিলেন এন. গোপালগোস্বামী আয়েঙ্গার,  আল্লাদী কৃষ্ণস্বামী আয়ার,  কে. এম মন্সি,  ডি.পি খৈতান ও বি. এল. মিত্র প্রমুখ।
১৯৪৮ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারী ‘ খসড়া কমিটি’ গণপরিষদের কাছে খসড়া সংবিধানে প্রেশ করে। দীর্ঘ আলাপ আলোচনা ও সংশোধন মাধ্যমে শেষমেষ ১৯৪৯ সালে ২৬ শে নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধানের গ্রহণ করা হয়। এই সংবিধানে মোট ৩৬৫ টি ধারা ৮ টি তপশিলি ছিল। সংবিধান তৈরী করতে সময় লেগেছিল ২ বছর ১১ মাস ১৭ দিন। যা পৃথিবীতে অন্যদেশে সংবিধান রচনা করতে এত সময় লাগেনি। সেই জন্য পৃথিবীর বৃহত্তম লিখিত সংবিধান হল ভারতের সংবিধান।  এরপরে ১৯৫০ সালে ২৪ শে জানুয়ারী গণপরিষদের অধিবেশনে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আর ১৯৫০ সালে ২৬ জানুয়ারী থেকে ভারতের সংবিধান কার্যকরী হয়। এবং ওই দিন থেকে ভারত একটি ” সাবভোম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ‘ রূপে আত্মপ্রকাশ হয়। আর এই দিনটি ভারতের ” সাধারণতন্ত্র দিবস ” ( REPUBLIC DAY) হিসেবে পরিচিত।আজও আমরা সমগ্র ভারতবাসী এই দিনটি পালন করে থাকি।এবছর প্রজাতন্ত্র দিবস ৬৯ বছর সম্পূর্ণ হবে।সাধারণতন্ত্র দিবস উৎযাপন প্রধান কর্মসূচী হয় ভারতের রাষ্ট্রপতির সামনে, নয়াদিল্লীতে। এইদিনে দিল্লির রাজপথে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়,  যা ভারতের রাষ্ট্রের উদ্দশ্য উৎসর্গ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে ভারতের তিন সামরিক বাহিনী, যথা স্থলবাহিনী,  নৌবাহিনী ও বায়ুসেনা।  এটি হল ভারতের জাতীয় দিবস।তবে ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনায় (PREAMBLE) ভারতকে একটি ” সার্বভৌম,  গণতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্র,  ” বলে অভিহিত করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে, নারী – পুরুষ, জাতিধর্মবর্ণনির্বিশেষ প্রত্যেকে ভারতীয় নাগরিক সামাজিক,  অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার ভোগ করবে। তবে এই কথাটি আজও আমাদের প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের প্রথম বা দ্বিতীয় পাতায় প্রস্তাবনা বলে লিখিত থাকে,  আর অশোকস্তম্ভ চিহ্ন থাকে।

প্রজাতন্ত্র হল এমন একটি সরকারি ব্যবস্থা যেখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ভোগ করে থাকে জনগণ  বা জণগণের এক অংশ।  এই ব্যবস্থাতে কোন রাজা বা রাণীর অস্তিত্ব নেই। তবে ইংরেজী ভাষায় ” প্রজাতন্ত্র ”  শব্দের প্রতিশব্দ হল ” “REPUBLIC ” এটি এসেছে লাতিন শব্দবন্ধ “RESPUBLICA ” শব্দবন্ধটি থেকে,  এর আক্ষরিক অর্থ ‘ জনগণ সংক্রান্ত একটি বিষয়। সারা বিশ্বের মধ্যে বিভিন্ন রাষ্ট্রে প্রজাতন্ত্র সরকার বর্তমান। তবে প্রজাতন্ত্র সরকারী ব্যবস্থাও কিন্ত ভারতে রয়েছে। এই প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গেলে অতীতের ইতিহাস তুলে ধরা প্রয়োজন। ১৮৫৮ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশ ছিল ব্রিটিশ রাজশক্তির প্রত্যক্ষ শাসনাধীনে। এইসময় থেকে বিদেশি শাসকদের হাত থেকে মুক্ত করতে এক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সুত্রপাত ঘটে। বহু দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর ১৯৪৭ এর ১৫ আগষ্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। এবং জাতীয় উপমহাদেশে ভারত (INDIA) এবং পাকিস্তান (PAKISTAN) নামে দুটি স্বাধীন  রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটে। কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হওয়ার ফলে জাতিগত সমস্যা,  সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেশে দেখা দেয়। এর ফলে ভারতকে নানা সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়।  ভারতের সামাজিক,  রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে চরম পর্যায় পৌঁছে যায়। ঠিক এইসময়ে ভারতে প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত ভারত কে সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্য এবং দেশ ও জাতির মুক্তির কামনার উদ্দেশ্য শুরু হয় নানা গঠনমৃলক কাজ। এই ভাবে গণপরিষদ ও সংবিধানের কাজ। এই সঙ্গে সূচনা হল  প্রজাতন্ত্রের সুত্রপাত। 
গণপরিষদের সুচনা :- পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি একটি নির্দিষ্ট সংবিধানের দ্বারা পরিচালিত হয়। কারণ সংবিধানই হল একটি দেশের পরিচালনার অপরিহার্য অঙ্গ বিশেষ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই সংবিধান রচনা করে থাকে। তবে সমগ্র দেশবাসীর পক্ষে সংবিধান রচনার কাজে প্রত্যক্ষ ভাবে অংশগ্রহণ সম্ভব নয়।  তাই এই সংবিধান রচনার কাজ একটি  সংস্থা করে থাকে। আর এই সংস্থাই দেশবাসী হয়ে সংবিধান রচনা করে। 
গণপরিষদের গঠনের চারটি মূলনীতি:- গণপরিষদের গঠনের চারটি মূলনীতি ছিল। ঠিক হয়েছিল যে,  গণপরিষদের যেসব সদস্য হবেন,  তারা প্রাদেশিক আইণ সভার সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবে। অর্থাৎ  ক্যাবিনেট মিশনের সুপারিশ চারটি মূলনীতি ওপর ভিত্তি করে ভারতীয় গণপরিষদ ব্যবস্থা করা হয়।  
১, ব্রিটিশ শাসিত প্রদেশ ও দেশীয় রাজ্য গুলি তাদের জনসংখ্যার অনুপাত হিসাবে গণপরিষদে আসন পাবে।
২, গণপরিষদের সফল আসন সাধারণ (অ-মুসলিম ও অ-শিখ) অর্থাৎ  হিন্দু , মুসলমান ও শিখ এই তিনটি সম্প্রদায়ের মধ্যে আনুপাতিক ভাগ হবে।
৩, প্রাদেশিক আইণ সভার প্রতিটি সম্প্রদায়ের একক হস্তান্তর যোগ্য সমানুপাতিক ভোটাধিকার ভিত্তিতে নিজ নিজ সম্প্রদায় প্রতিনিধি দের নির্বাচিত  করবে। 
৪, দেশীয় রাজ্যগুলিতে ৯৩ জন প্রতিনিধি পাঠাবে, পরে আলোচনা মাধ্যমে ঠিক হয় যে, দেশীয় রাজ্যের অর্ধেক প্রতিনিধি নির্বাচিত  দ্বারা এবং অর্ধেক প্রতিনিধি মনোনয়নের দ্বারা স্থির করবে।আর মন্ত্রীমিশন অনুযায়ী ঠিক হয় যে, গণপরিষদে মোট ৩৮৯ জন সদস্য থাকবে।  এর মধ্যে ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চল প্রদেশ থেকে ২৯২ জন,  চিফ কমিশনার শাসিত প্রদেশ গুলি থেকে ৪ জন। এবং দেশীয় রাজ্য গুলি থেকে ৯৩ জন প্রতিনিধিত্ব করবে। 
গণপরিষদের গঠন:-  ১৯৪৬ সালে জুলাই মাসে দিকে গণপরিষদের নির্বাচন কার্য অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনমন্ডলী ছিলেন প্রাদেশিক  আইনসভার সদস্যরা।  গণপরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৮৯জন।  এর মধ্যে দেশীয় রাজ্যের প্রতিনিধি সংখ্যা ৯৩ জন। ২৯৬ টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ২০৮ টি আসন, মুসলিম লিগ ৭৮ টি আসন লাভ করে। এরফলে দেখা যাচ্ছে কংগ্রেস বেশীর ভাগ আসন লাভ করে। এই গণপরিষদের বহু বিশিষ্ট ব্যাক্তিগণ সদস্য রূপে নির্বাচিত হন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য :- সর্দার বল্লব ভাই প্যাটেল,জওহরলাল নেহরু, ড. বি. আর.  আম্বেদকর,  মৌলানা আবদুল কালাম আজাদ, চক্রবর্তী রাজা গোপালাচারী,  ড. রাধাকৃষ্ণাণ,  কে. এম. মুন্সি প্রমুখ।তবে সংবিধান রচনা ও গণপরিষদের পরিচালনার মূল কতৃত্ব ছিল চারজনের হাতে। তাঁরা হলেন :- সর্দার বল্লবভাই প্যাটেল, জওহরলাল নেহরু,  মৌলানা আবদুল কালাম আজাদ ও ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।  খসড়া সংবিধানের প্রনয়নের একক কর্তৃত্ব ছিল ড. বি. আর আম্বেদকর।
গণপরিষদের মূল লক্ষ্য :- শুধুমাত্র স্বাধীনতা অর্জনের জন্য গণপরিষদ নয়।  লক্ষ্য হল আর্থসামজিক ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাই প্রতিটি জাতির মূল লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য পৌঁছাবার জন্য প্রয়োজন বহিশত্রু নিয়ন্ত্রণমুক্ত পূর্ণ স্বাধীনতা। ভারতীয় গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল স্বাধীন ভারতে সামাজিক,  অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর রূপরেখা করা।  এই প্রসঙ্গে জওহরলাল নেহরু বলেন ” গণপরিষদের প্রধান কাজ হবে একটি নতুন সংবিধান প্রনয়নের মাধ্যমে ভারত কে স্বাধীন করা,  ক্ষুদ্ধার্ত মানুষেরমুখে দুইমুঠো অন্ন,  বস্ত্রহীন কে বস্ত্র, এবং প্রতিটি ভারতবাসীকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী আত্নবিকাশের সুবিধা প্রদান করা”। ড. সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণাণ বলেন ” একটি সামজিক অথনৈতিক বিপ্লবসাধনই গণপরিষদের মূল লক্ষ্য।
সংবিধান রচনা :
– ১৯৪৬ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল। কিন্তু প্রথম অধিবেশনে মুসলিম লিগের প্রতিনিধিরা যোগদান করেনি। তাদের অনুপস্থিতিতে ২০৭  জন প্রতিনিধি নিয়ে কাজ শুরু করে।বিশিষ্ট কংগ্রেস সভাপতি জে বি কৃপালিনীর প্রস্তাবে ড. সচ্চিদানন্দ সিংহকে গণপরিষদের অস্থায়ী সভাপতি করে কাজ শুরু করেন।তারপরে ১১ ই ডিসেম্বরে গণপরিষদের স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত করেন।এরপরে ১৩ ই ডিসেম্বর জওহরলাল নেহরু ভারতীয় সংবিধানের “লক্ষ্যমূলক প্রস্তাব”  উথাপন করে ভারতকে ” স্বাধীন সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র বলে অভিহিত করেন। এরমধ্যে ১৯৪৭ সালে ১৫ আগষ্ট ভারত স্বাধীন হয়ে যায়। এবং ২৯ আগষ্ট সংবিধান রচনার জন্য “খসড়া কমিটি ” (DRAFTING COMMITTEE)  গঠন হয়। এই কমিটি সভাপতি ছিলেন ড. বি. আর আম্বেদকর।  কমিটি সদস্য ছিলেন এন. গোপালগোস্বামী আয়েঙ্গার,  আল্লাদী কৃষ্ণস্বামী আয়ার,  কে. এম মন্সি,  ডি.পি খৈতান ও বি. এল. মিত্র প্রমুখ।
১৯৪৮ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারী ‘ খসড়া কমিটি’ গণপরিষদের কাছে খসড়া সংবিধানে প্রেশ করে। দীর্ঘ আলাপ আলোচনা ও সংশোধন মাধ্যমে শেষমেষ ১৯৪৯ সালে ২৬ শে নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধানের গ্রহণ করা হয়। এই সংবিধানে মোট ৩৬৫ টি ধারা ৮ টি তপশিলি ছিল। সংবিধান তৈরী করতে সময় লেগেছিল ২ বছর ১১ মাস ১৭ দিন। যা পৃথিবীতে অন্যদেশে সংবিধান রচনা করতে এত সময় লাগেনি। সেই জন্য পৃথিবীর বৃহত্তম লিখিত সংবিধান হল ভারতের সংবিধান।  এরপরে ১৯৫০ সালে ২৪ শে জানুয়ারী গণপরিষদের অধিবেশনে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আর ১৯৫০ সালে ২৬ জানুয়ারী থেকে ভারতের সংবিধান কার্যকরী হয়। এবং ওই দিন থেকে ভারত একটি ” সাবভোম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ‘ রূপে আত্মপ্রকাশ হয়। আর এই দিনটি ভারতের ” সাধারণতন্ত্র দিবস ” ( REPUBLIC DAY) হিসেবে পরিচিত।আজও আমরা সমগ্র ভারতবাসী এই দিনটি পালন করে থাকি।এবছর প্রজাতন্ত্র দিবস ৬৯ বছর সম্পূর্ণ হবে।সাধারণতন্ত্র দিবস উৎযাপন প্রধান কর্মসূচী হয় ভারতের রাষ্ট্রপতির সামনে, নয়াদিল্লীতে। এইদিনে দিল্লির রাজপথে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়,  যা ভারতের রাষ্ট্রের উদ্দশ্য উৎসর্গ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে ভারতের তিন সামরিক বাহিনী, যথা স্থলবাহিনী,  নৌবাহিনী ও বায়ুসেনা।  এটি হল ভারতের জাতীয় দিবস।তবে ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনায় (PREAMBLE) ভারতকে একটি ” সার্বভৌম,  গণতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্র,” বলে অভিহিত করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে, নারী – পুরুষ, জাতিধর্মবর্ণনির্বিশেষ প্রত্যেকে ভারতীয় নাগরিক সামাজিক,  অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার ভোগ করবে। তবে এই কথাটি আজও আমাদের প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের প্রথম বা দ্বিতীয় পাতায় প্রস্তাবনা বলে লিখিত থাকে,  আর অশোকস্তম্ভ চিহ্ন থাকে। 

প্রজাতন্ত্র হল এমন একটি সরকারি ব্যবস্থা যেখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ভোগ করে থাকে জনগণ  বা জণগণের এক অংশ।  এই ব্যবস্থাতে কোন রাজা বা রাণীর অস্তিত্ব নেই। তবে ইংরেজী ভাষায় ” প্রজাতন্ত্র ”  শব্দের প্রতিশব্দ হল ” “REPUBLIC ” এটি এসেছে লাতিন শব্দবন্ধ “RESPUBLICA ” শব্দবন্ধটি থেকে,  এর আক্ষরিক অর্থ ‘ জনগণ সংক্রান্ত একটি বিষয়। সারা বিশ্বের মধ্যে বিভিন্ন রাষ্ট্রে প্রজাতন্ত্র সরকার বর্তমান। তবে প্রজাতন্ত্র সরকারী ব্যবস্থাও কিন্ত ভারতে রয়েছে। এই প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গেলে অতীতের ইতিহাস তুলে ধরা প্রয়োজন।১৮৫৮ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশ ছিল ব্রিটিশ রাজশক্তির প্রত্যক্ষ শাসনাধীনে। এইসময় থেকে বিদেশি শাসকদের হাত থেকে মুক্ত করতে এক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সুত্রপাত ঘটে। বহু দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর ১৯৪৭ এর ১৫ আগষ্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে। এবং জাতীয় উপমহাদেশে ভারত (INDIA) এবং পাকিস্তান (PAKISTAN) নামে দুটি স্বাধীন  রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটে। কিন্তু ধর্মের ভিত্তিতে দেশ ভাগ হওয়ার ফলে জাতিগত সমস্যা,  সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেশে দেখা দেয়। এর ফলে ভারতকে নানা সমস্যার সন্মুখীন হতে হয়।  ভারতের সামাজিক,  রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে চরম পর্যায় পৌঁছে যায়।  ঠিক এইসময়ে ভারতে প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে সদ্য স্বাধীনতা প্রাপ্ত ভারত কে সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্য এবং দেশ ও জাতির মুক্তির কামনার উদ্দেশ্য শুরু হয় নানা গঠনমৃলক কাজ। এই ভাবে গণপরিষদ ও সংবিধানের কাজ। এই সঙ্গে সূচনা হল  প্রজাতন্ত্রের সুত্রপাত। 
গণপরিষদের সূচনা :- পৃথিবীর সব গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি একটি নির্দিষ্ট সংবিধানের দ্বারা পরিচালিত হয়। কারণ সংবিধানই হল একটি দেশের পরিচালনার অপরিহার্য অঙ্গ বিশেষ। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণই সংবিধান রচনা করে থাকে। তবে সমগ্র দেশবাসীর পক্ষে সংবিধান রচনার কাজে প্রত্যক্ষ ভাবে অংশগ্রহণ সম্ভব নয়।  তাই এই সংবিধান রচনার কাজ একটি  সংস্থা করে থাকে। আর এই সংস্থাই দেশবাসী হয়ে সংবিধান রচনা করে। 
গণপরিষদের গঠনের চারটি মূলনীতি:- গণপরিষদের গঠনের চারটি মূলনীতি ছিল। ঠিক হয়েছিল যে,  গণপরিষদের যেসব সদস্য হবেন,  তারা প্রাদেশিক আইণ সভার সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবে। অর্থাৎ  ক্যাবিনেট মিশনের সুপারিশ চারটি মূলনীতি ওপর ভিত্তি করে ভারতীয় গণপরিষদ ব্যবস্থা করা হয়।  ১, ব্রিটিশ শাসিত প্রদেশ ও দেশীয় রাজ্য গুলি তাদের জনসংখ্যার অনুপাত হিসাবে গণপরিষদে আসন পাবে। ২, গণপরিষদের সফল আসন সাধারণ (অ-মুসলিম ও অ-শিখ) অর্থাৎ  হিন্দু , মুসলমান ও শিখ এই তিনটি সম্প্রদায়ের মধ্যে আনুপাতিক ভাগ হবে।৩, প্রাদেশিক আইণ সভার প্রতিটি সম্প্রদায়ের একক হস্তান্তর যোগ্য সমানুপাতিক ভোটাধিকার ভিত্তিতে নিজ নিজ সম্প্রদায় প্রতিনিধি দের নির্বাচিত  করবে। ৪,  দেশীয় রাজ্যগুলিতে ৯৩ জন প্রতিনিধি পাঠাবে, পরে আলোচনা মাধ্যমে ঠিক হয় যে, দেশীয় রাজ্যের অর্ধেক প্রতিনিধি নির্বাচিত  দ্বারা এবং অর্ধেক প্রতিনিধি মনোনয়নের দ্বারা স্থির করবে।আর মন্ত্রীমিশন অনুযায়ী ঠিক হয় যে, গণপরিষদে মোট ৩৮৯ জন সদস্য থাকবে। এর মধ্যে ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চল প্রদেশ থেকে ২৯২ জন,  চিফ কমিশনার শাসিত প্রদেশ গুলি থেকে ৪ জন। এবং দেশীয় রাজ্য গুলি থেকে ৯৩ জন প্রতিনিধিত্ব করবে। 
গণপরিষদের গঠন:-  ১৯৪৬ সালে জুলাই মাসে দিকে গণপরিষদের নির্বাচন কার্য অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনমন্ডলী  ছিলেন প্রাদেশিক  আইনসভার সদস্যরা।  গণপরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৮৯জন।  এর মধ্যে দেশীয় রাজ্যের প্রতিনিধি সংখ্যা ৯৩ জন। ২৯৬ টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ২০৮ টি আসন, মুসলিম লিগ ৭৮ টি আসন লাভ করে। এরফলে দেখা যাচ্ছে কংগ্রেস বেশীর ভাগ আসন লাভ করে। এই গণপরিষদের বহু বিশিষ্ট ব্যাক্তিগণ সদস্য রূপে নির্বাচিত হন। তাঁদের মধ্যে হলেন :- সর্দার বল্লব ভাই প্যাটেল,জওহরলাল নেহরু, ড. বি. আর.  আম্বেদকর,  মৌলানা আবদুল কালাম আজাদ, চক্রবর্তী রাজা গোপালাচারী,  ড. রাধাকৃষ্ণাণ,  কে. এম. মুন্সি প্রমুখ।তবে সংবিধান রচনা ও গণপরিষদের পরিচালনার মূল কতৃত্ব ছিল চারজনের হাতে। তাঁরা হলেন :- সর্দার বল্লবভাই প্যাটেল, জওহরলাল নেহরু,  মৌলানা আবদুল কালাম আজাদ ও ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।  খসড়া সংবিধানের প্রনয়নের একক কর্তৃত্ব ছিল ড. বি. আর আম্বেদকর।
গণপরিষদের মূল লক্ষ্য :- শুধুমাত্র স্বাধীনতা অর্জনের জন্য গণপরিষদ নয়।  লক্ষ্য হল আর্থসামজিক ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাই প্রতিটি জাতির মূল লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য পৌঁছাবার জন্য প্রয়োজন বহিশত্রু নিয়ন্ত্রণমুক্ত পূর্ণ স্বাধীনতা। ভারতীয় গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল স্বাধীন ভারতে সামাজিক,  অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর রূপরেখা করা।  এই প্রসঙ্গে জওহরলাল নেহরু বলেন ” গণপরিষদের প্রধান কাজ হবে একটি নতুন সংবিধান প্রনয়নের মাধ্যমে ভারত কে স্বাধীন করা,  ক্ষুদ্ধার্ত মানুষেরমুখে দুইমুঠো অন্ন,  বস্ত্রহীন কে বস্ত্র, এবং প্রতিটি ভারতবাসীকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী আত্নবিকাশের সুবিধা প্রদান করা”। ড. সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণাণ বলেন ” একটি সামজিক অথনৈতিক বিপ্লবসাধনই গণপরিষদের মূল লক্ষ্য।
সংবিধান রচনা :- ১৯৪৬ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল। কিন্তু প্রথম অধিবেশনে মুসলিম লিগের প্রতিনিধিরা যোগদান করেনি। তাদের অনুপস্থিতিতে ২০৭  জন প্রতিনিধি নিয়ে কাজ শুরু করে।বিশিষ্ট কংগ্রেস সভাপতি জে বি কৃপালিনীর প্রস্তাবে ড. সচ্চিদানন্দ সিংহকে গণপরিষদের অস্থায়ী সভাপতি করে কাজ শুরু করেন।তারপরে ১১ ই ডিসেম্বরে গণপরিষদের স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত করেন। এরপরে ১৩ ই ডিসেম্বর জওহরলাল নেহরু ভারতীয় সংবিধানের “লক্ষ্যমূলক প্রস্তাব”  উথাপন করে ভারতকে ” স্বাধীন সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র বলে অভিহিত করেন। এরমধ্যে ১৯৪৭ সালে ১৫ আগষ্ট ভারত স্বাধীন হয়ে যায়। এবং ২৯ আগষ্ট সংবিধান রচনার জন্য “খসড়া কমিটি ” (DRAFTING COMMITTEE)  গঠন হয়। এই কমিটি সভাপতি ছিলেন ড. বি. আর আম্বেদকর।  কমিটি সদস্য ছিলেন এন. গোপালগোস্বামী আয়েঙ্গার,  আল্লাদী কৃষ্ণস্বামী আয়ার,  কে. এম মন্সি,  ডি.পি খৈতান ও বি. এল. মিত্র প্রমুখ।
১৯৪৮ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারী ‘খসড়া কমিটি’ গণপরিষদের কাছে খসড়া সংবিধানে প্রেশ করে। দীর্ঘ আলাপ আলোচনা ও সংশোধন মাধ্যমে শেষমেষ ১৯৪৯ সালে ২৬ শে নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধানের গ্রহণ করা হয়। এই সংবিধানে মোট ৩৬৫ টি ধারা ৮ টি তপশিলি ছিল। সংবিধান তৈরী করতে সময় লেগেছিল ২ বছর ১১ মাস ১৭ দিন। যা পৃথিবীতে অন্যদেশে সংবিধান রচনা করতে এত সময় লাগেনি। সেই জন্য পৃথিবীর বৃহত্তম লিখিত সংবিধান হল ভারতের সংবিধান।  এরপরে ১৯৫০ সালে ২৪ শে জানুয়ারী গণপরিষদের অধিবেশনে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আর ১৯৫০ সালে ২৬ জানুয়ারী থেকে ভারতের সংবিধান কার্যকরী হয়। এবং ওই দিন থেকে ভারত একটি ” সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ‘ রূপে আত্মপ্রকাশ হয়। আর এই দিনটি ভারতের “সাধারণতন্ত্র দিবস ” ( REPUBLIC DAY) হিসেবে পরিচিত।আজও আমরা সমগ্র ভারতবাসী এই দিনটি পালন করে থাকি।এবছর প্রজাতন্ত্র দিবস ৬৯ বছর সম্পূর্ণ হবে।সাধারণতন্ত্র দিবস উৎযাপন প্রধান কর্মসূচী হয় ভারতের রাষ্ট্রপতির সামনে, নয়াদিল্লীতে। এইদিনে দিল্লির রাজপথে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়,  যা ভারতের রাষ্ট্রের উদ্দশ্য উৎসর্গ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে ভারতের তিন সামরিক বাহিনী, যথা স্থলবাহিনী,  নৌবাহিনী ও বায়ুসেনা।  এটি হল ভারতের জাতীয় দিবস।তবে ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনায় (PREAMBLE) ভারতকে একটি ” সার্বভৌম,  গণতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্র,  ” বলে অভিহিত করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে, নারী – পুরুষ, জাতিধর্মবর্ণনির্বিশেষ প্রত্যেকে ভারতীয় নাগরিক সামাজিক,  অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার ভোগ করবে। তবে এই কথাটি আজও আমাদের প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের প্রথম বা দ্বিতীয় পাতায় প্রস্তাবনা বলে লিখিত থাকে,  আর অশোকস্তম্ভ চিহ্ন থাকে।

শুধুমাত্র স্বাধীনতা অর্জনের জন্য গণপরিষদ নয়।  লক্ষ্য হল আর্থসামজিক ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাই প্রতিটি জাতির মূল লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য পৌঁছাবার জন্য প্রয়োজন বহিশত্রু নিয়ন্ত্রণমুক্ত পূর্ণ স্বাধীনতা। ভারতীয় গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল স্বাধীন ভারতে সামাজিক,  অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর রূপরেখা করা।  এই প্রসঙ্গে জওহরলাল নেহরু বলেন, “গণপরিষদের প্রধান কাজ হবে একটি নতুন সংবিধান প্রনয়নের মাধ্যমে ভারত কে স্বাধীন করা,  ক্ষুদ্ধার্ত মানুষেরমুখে দুইমুঠো অন্ন,  বস্ত্রহীন কে বস্ত্র, এবং প্রতিটি ভারতবাসীকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী আত্নবিকাশের সুবিধা প্রদান করা”। ড. সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণাণ বলেন, “একটি সামজিক অথনৈতিক বিপ্লবসাধনই গণপরিষদের মূল লক্ষ্য।”
সংবিধান রচনা :- ১৯৪৬ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল। কিন্তু প্রথম অধিবেশনে মুসলিম লিগের প্রতিনিধিরা যোগদান করেনি। তাদের অনুপস্থিতিতে ২০৭  জন প্রতিনিধি নিয়ে কাজ শুরু করে।বিশিষ্ট কংগ্রেস সভাপতি জে বি কৃপালিনীর প্রস্তাবে ড. সচ্চিদানন্দ সিংহকে গণপরিষদের অস্থায়ী সভাপতি করে কাজ শুরু করেন।তারপরে ১১ ই ডিসেম্বরে গণপরিষদের স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত করেন।এরপরে ১৩ ই ডিসেম্বর জওহরলাল নেহরু ভারতীয় সংবিধানের “লক্ষ্যমূলক প্রস্তাব”  উথাপন করে ভারতকে ” স্বাধীন সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র বলে অভিহিত করেন। এরমধ্যে ১৯৪৭ সালে ১৫ আগষ্ট ভারত স্বাধীন হয়ে যায়। এবং ২৯ আগষ্ট সংবিধান রচনার জন্য “খসড়া কমিটি ” (DRAFTING COMMITTEE)  গঠন হয়। এই কমিটি সভাপতি ছিলেন ড. বি. আর আম্বেদকর।  কমিটি সদস্য ছিলেন এন. গোপালগোস্বামী আয়েঙ্গার,  আল্লাদী কৃষ্ণস্বামী আয়ার,  কে. এম মন্সি,  ডি.পি খৈতান ও বি. এল. মিত্র প্রমুখ।
১৯৪৮ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারী ‘ খসড়া কমিটি’ গণপরিষদের কাছে খসড়া সংবিধানে প্রেশ করে। দীর্ঘ আলাপ আলোচনা ও সংশোধন মাধ্যমে শেষমেষ ১৯৪৯ সালে ২৬ শে নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধানের গ্রহণ করা হয়।এই সংবিধানে মোট ৩৬৫ টি ধারা ৮ টি তপশিলি ছিল। সংবিধান তৈরী করতে সময় লেগেছিল ২ বছর ১১ মাস ১৭ দিন। যা পৃথিবীতে অন্যদেশে সংবিধান রচনা করতে এত সময় লাগেনি। সেই জন্য পৃথিবীর বৃহত্তম লিখিত সংবিধান হল ভারতের সংবিধান।  এরপরে ১৯৫০ সালে ২৪ শে জানুয়ারী গণপরিষদের অধিবেশনে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আর ১৯৫০ সালে ২৬ জানুয়ারী থেকে ভারতের সংবিধান কার্যকরী হয়। এবং ওই দিন থেকে ভারত একটি ” সাবভোম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ‘ রূপে আত্মপ্রকাশ হয়। আর এই দিনটি ভারতের ” সাধারণতন্ত্র দিবস ” ( REPUBLIC DAY) হিসেবে পরিচিত।আজও আমরা সমগ্র ভারতবাসী এই দিনটি পালন করে থাকি।এবছর প্রজাতন্ত্র দিবস ৬৯ বছর সম্পূর্ণ হবে।সাধারণতন্ত্র দিবস উৎযাপন প্রধান কর্মসূচী হয় ভারতের রাষ্ট্রপতির সামনে, নয়াদিল্লীতে। এইদিনে দিল্লির রাজপথে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়,  যা ভারতের রাষ্ট্রের উদ্দশ্য উৎসর্গ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে ভারতের তিন সামরিক বাহিনী, যথা স্থলবাহিনী,  নৌবাহিনী ও বায়ুসেনা।  এটি হল ভারতের জাতীয় দিবস।তবে ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনায় (PREAMBLE) ভারতকে একটি ” সার্বভৌম,  গণতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্র,  ” বলে অভিহিত করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে, নারী – পুরুষ, জাতিধর্মবর্ণনির্বিশেষ প্রত্যেকে ভারতীয় নাগরিক সামাজিক,  অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার ভোগ করবে। তবে এই কথাটি আজও আমাদের প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের প্রথম বা দ্বিতীয় পাতায় প্রস্তাবনা বলে লিখিত থাকে,  আর অশোকস্তম্ভ চিহ্ন থাকে।

১৯৪৬ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল। কিন্তু প্রথম অধিবেশনে মুসলিম লিগের প্রতিনিধিরা যোগদান করেনি। তাদের অনুপস্থিতিতে ২০৭  জন প্রতিনিধি নিয়ে কাজ শুরু করে।বিশিষ্ট কংগ্রেস সভাপতি জে বি কৃপালিনীর প্রস্তাবে ড. সচ্চিদানন্দ সিংহকে গণপরিষদের অস্থায়ী সভাপতি করে কাজ শুরু করেন।তারপরে ১১ ই ডিসেম্বরে গণপরিষদের স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত করেন।এরপরে ১৩ ই ডিসেম্বর জওহরলাল নেহরু ভারতীয় সংবিধানের “লক্ষ্যমূলক প্রস্তাব”  উথাপন করে ভারতকে ” স্বাধীন সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র বলে অভিহিত করেন। এরমধ্যে ১৯৪৭ সালে ১৫ আগষ্ট ভারত স্বাধীন হয়ে যায়। এবং ২৯ আগষ্ট সংবিধান রচনার জন্য “খসড়া কমিটি ” (DRAFTING COMMITTEE)  গঠন হয়। এই কমিটি সভাপতি ছিলেন ড. বি. আর আম্বেদকর।  কমিটি সদস্য ছিলেন এন. গোপালগোস্বামী আয়েঙ্গার,  আল্লাদী কৃষ্ণস্বামী আয়ার,  কে. এম মন্সি,  ডি.পি খৈতান ও বি. এল. মিত্র প্রমুখ।
১৯৪৮ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারী ‘ খসড়া কমিটি’ গণপরিষদের কাছে খসড়া সংবিধানে প্রেশ করে। দীর্ঘ আলাপ আলোচনা ও সংশোধন মাধ্যমে শেষমেষ ১৯৪৯ সালে ২৬ শে নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধানের গ্রহণ করা হয়। এই সংবিধানে মোট ৩৬৫ টি ধারা ৮ টি তপশিলি ছিল। সংবিধান তৈরী করতে সময় লেগেছিল ২ বছর ১১ মাস ১৭ দিন। যা পৃথিবীতে অন্যদেশে সংবিধান রচনা করতে এত সময় লাগেনি। সেই জন্য পৃথিবীর বৃহত্তম লিখিত সংবিধান হল ভারতের সংবিধান।  এরপরে ১৯৫০ সালে ২৪ শে জানুয়ারী গণপরিষদের অধিবেশনে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আর ১৯৫০ সালে ২৬ জানুয়ারী থেকে ভারতের সংবিধান কার্যকরী হয়। এবং ওই দিন থেকে ভারত একটি ” সাবভোম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ‘ রূপে আত্মপ্রকাশ হয়। আর এই দিনটি ভারতের ” সাধারণতন্ত্র দিবস ” ( REPUBLIC DAY) হিসেবে পরিচিত।আজও আমরা সমগ্র ভারতবাসী এই দিনটি পালন করে থাকি।এবছর প্রজাতন্ত্র দিবস ৬৯ বছর সম্পূর্ণ হবে।সাধারণতন্ত্র দিবস উৎযাপন প্রধান কর্মসূচী হয় ভারতের রাষ্ট্রপতির সামনে, নয়াদিল্লীতে। এইদিনে দিল্লির রাজপথে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়,  যা ভারতের রাষ্ট্রের উদ্দশ্য উৎসর্গ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে ভারতের তিন সামরিক বাহিনী, যথা স্থলবাহিনী,  নৌবাহিনী ও বায়ুসেনা।  এটি হল ভারতের জাতীয় দিবস।তবে ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনায় (PREAMBLE) ভারতকে একটি ” সার্বভৌম,  গণতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্র,  ” বলে অভিহিত করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে, নারী – পুরুষ, জাতিধর্মবর্ণনির্বিশেষ প্রত্যেকে ভারতীয় নাগরিক সামাজিক,  অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার ভোগ করবে। তবে এই কথাটি আজও আমাদের প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের প্রথম বা দ্বিতীয় পাতায় প্রস্তাবনা বলে লিখিত থাকে,  আর অশোকস্তম্ভ চিহ্ন থাকে। 
২, গণপরিষদের সফল আসন সাধারণ (অ-মুসলিম ও অ-শিখ) অর্থাৎ  হিন্দু , মুসলমান ও শিখ এই তিনটি সম্প্রদায়ের মধ্যে আনুপাতিক ভাগ হবে।৩, প্রাদেশিক আইণ সভার প্রতিটি সম্প্রদায়ের একক হস্তান্তর যোগ্য সমানুপাতিক ভোটাধিকার ভিত্তিতে নিজ নিজ সম্প্রদায় প্রতিনিধি দের নির্বাচিত  করবে। ৪,  দেশীয় রাজ্যগুলিতে ৯৩ জন প্রতিনিধি পাঠাবে, পরে আলোচনা মাধ্যমে ঠিক হয় যে, দেশীয় রাজ্যের অর্ধেক প্রতিনিধি নির্বাচিত  দ্বারা এবং অর্ধেক প্রতিনিধি মনোনয়নের দ্বারা স্থির করবে।আর মন্ত্রীমিশন অনুযায়ী ঠিক হয় যে, গণপরিষদে মোট ৩৮৯ জন সদস্য থাকবে।  এর মধ্যে ব্রিটিশ শাসিত অঞ্চল প্রদেশ থেকে ২৯২ জন,  চিফ কমিশনার শাসিত প্রদেশ গুলি থেকে ৪ জন।  এবং দেশীয় রাজ্য গুলি থেকে ৯৩ জন প্রতিনিধিত্ব করবে। 
গণপরিষদের গঠন:-  ১৯৪৬ সালে জুলাই মাসে দিকে গণপরিষদের নির্বাচন কার্য অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনমন্ডলী ছিলেন প্রাদেশিক  আইনসভার সদস্যরা।  গণপরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ছিল ৩৮৯জন।  এর মধ্যে দেশীয় রাজ্যের প্রতিনিধি সংখ্যা ৯৩ জন। ২৯৬ টি আসনের মধ্যে কংগ্রেস ২০৮ টি আসন, মুসলিম লিগ ৭৮ টি আসন লাভ করে। এরফলে দেখা যাচ্ছে কংগ্রেস বেশীর ভাগ আসন লাভ করে। এই গণপরিষদের বহু বিশিষ্ট ব্যাক্তিগণ সদস্য রূপে নির্বাচিত হন। তাঁদের মধ্যে হলেন :- সর্দার বল্লব ভাই প্যাটেল,জওহরলাল নেহরু, ড. বি. আর.  আম্বেদকর,  মৌলানা আবদুল কালাম আজাদ, চক্রবর্তী রাজা গোপালাচারী,  ড. রাধাকৃষ্ণাণ,  কে. এম. মুন্সি প্রমুখ।তবে সংবিধান রচনা ও গণপরিষদের পরিচালনার মূল কতৃত্ব ছিল চারজনের হাতে। তাঁরা হলেন :- সর্দার বল্লবভাই প্যাটেল, জওহরলাল নেহরু,  মৌলানা আবদুল কালাম আজাদ ও ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ।  খসড়া সংবিধানের প্রনয়নের একক কর্তৃত্ব ছিল ড. বি. আর আম্বেদকর।
গণপরিষদের মূল লক্ষ্য :- শুধুমাত্র স্বাধীনতা অর্জনের জন্য গণপরিষদ নয়।  লক্ষ্য হল আর্থসামজিক ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাই প্রতিটি জাতির মূল লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য পৌঁছাবার জন্য প্রয়োজন বহিশত্রু নিয়ন্ত্রণমুক্ত পূর্ণ স্বাধীনতা। ভারতীয় গণপরিষদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল স্বাধীন ভারতে সামাজিক,  অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর রূপরেখা করা।  এই প্রসঙ্গে জওহরলাল নেহরু বলেন ” গণপরিষদের প্রধান কাজ হবে একটি নতুন সংবিধান প্রনয়নের মাধ্যমে ভারত কে স্বাধীন করা,  ক্ষুদ্ধার্ত মানুষেরমুখে দুইমুঠো অন্ন,  বস্ত্রহীন কে বস্ত্র, এবং প্রতিটি ভারতবাসীকে তার যোগ্যতা অনুযায়ী আত্নবিকাশের সুবিধা প্রদান করা”। ড. সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণাণ বলেন ” একটি সামজিক অথনৈতিক বিপ্লবসাধনই গণপরিষদের মূল লক্ষ্য।
সংবিধান রচনা :- ১৯৪৬ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসেছিল। কিন্তু প্রথম অধিবেশনে মুসলিম লিগের প্রতিনিধিরা যোগদান করেনি। তাদের অনুপস্থিতিতে ২০৭  জন প্রতিনিধি নিয়ে কাজ শুরু করে।বিশিষ্ট কংগ্রেস সভাপতি জে বি কৃপালিনীর প্রস্তাবে ড. সচ্চিদানন্দ সিংহকে গণপরিষদের অস্থায়ী সভাপতি করে কাজ শুরু করেন।তারপরে ১১ ই ডিসেম্বরে গণপরিষদের স্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত করেন।এরপরে ১৩ ই ডিসেম্বর জওহরলাল নেহরু ভারতীয় সংবিধানের “লক্ষ্যমূলক প্রস্তাব”  উথাপন করে ভারতকে ” স্বাধীন সার্বভৌম প্রজাতন্ত্র বলে অভিহিত করেন। এরমধ্যে ১৯৪৭ সালে ১৫ আগষ্ট ভারত স্বাধীন হয়ে যায়। এবং ২৯ আগষ্ট সংবিধান রচনার জন্য “খসড়া কমিটি ” (DRAFTING COMMITTEE)  গঠন হয়। এই কমিটি সভাপতি ছিলেন ড. বি. আর আম্বেদকর।  কমিটি সদস্য ছিলেন এন. গোপালগোস্বামী আয়েঙ্গার,  আল্লাদী কৃষ্ণস্বামী আয়ার,  কে. এম মন্সি,  ডি.পি খৈতান ও বি. এল. মিত্র প্রমুখ।
১৯৪৮ সালে ২১ শে ফেব্রুয়ারী ‘ খসড়া কমিটি’ গণপরিষদের কাছে খসড়া সংবিধানে প্রেশ করে। দীর্ঘ আলাপ আলোচনা ও সংশোধন মাধ্যমে শেষমেষ ১৯৪৯ সালে ২৬ শে নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধানের গ্রহণ করা হয়। এই সংবিধানে মোট ৩৬৫ টি ধারা ৮ টি তপশিলি ছিল। সংবিধান তৈরী করতে সময় লেগেছিল ২ বছর ১১ মাস ১৭ দিন। যা পৃথিবীতে অন্যদেশে সংবিধান রচনা করতে এত সময় লাগেনি। সেই জন্য পৃথিবীর বৃহত্তম লিখিত সংবিধান হল ভারতের সংবিধান।  এরপরে ১৯৫০ সালে ২৪ শে জানুয়ারী গণপরিষদের অধিবেশনে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। আর ১৯৫০ সালে ২৬ জানুয়ারী থেকে ভারতের সংবিধান কার্যকরী হয়। এবং ওই দিন থেকে ভারত একটি ” সাবভোম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ‘ রূপে আত্মপ্রকাশ হয়। আর এই দিনটি ভারতের ” সাধারণতন্ত্র দিবস ” ( REPUBLIC DAY) হিসেবে পরিচিত।আজও আমরা সমগ্র ভারতবাসী এই দিনটি পালন করে থাকি।এবছর প্রজাতন্ত্র দিবস ৬৯ বছর সম্পূর্ণ হবে।সাধারণতন্ত্র দিবস উৎযাপন প্রধান কর্মসূচী হয় ভারতের রাষ্ট্রপতির সামনে, নয়াদিল্লীতে। এইদিনে দিল্লির রাজপথে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়,  যা ভারতের রাষ্ট্রের উদ্দশ্য উৎসর্গ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে ভারতের তিন সামরিক বাহিনী, যথা স্থলবাহিনী,  নৌবাহিনী ও বায়ুসেনা।  এটি হল ভারতের জাতীয় দিবস।তবে ভারতের সংবিধানের প্রস্তাবনায় (PREAMBLE) ভারতকে একটি ” সার্বভৌম,  গণতান্ত্রিক, প্রজাতন্ত্র,  ” বলে অভিহিত করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে যে, নারী – পুরুষ, জাতিধর্মবর্ণনির্বিশেষ প্রত্যেকে ভারতীয় নাগরিক সামাজিক,  অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচার ভোগ করবে। তবে এই কথাটি আজও আমাদের প্রতিটি পাঠ্যপুস্তকের প্রথম বা দ্বিতীয় পাতায় প্রস্তাবনা বলে লিখিত থাকে,  আর অশোকস্তম্ভ চিহ্ন থাকে।

Facebook Comments