‘মালদা আগামী’-র নতুন নাটক ‘অ্যান ওড টু নানা: গম্ভীরা’

শ্রেয়া মহাপাত্র

মালদা জেলার সংস্কৃতির এক অমূল্য সম্পদ গম্ভীরা। ‘নানা’ অর্থাৎ শিব ঠাকুরের  কাছে নিজেদের অভাব অভিযোগ জানানোর কৌশল এই গম্ভীরার একটি বিশেষ দিক। সারা বিশ্বের কাছে মালদা যেমন আমের জন্য পরিচিত তেমনই সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের কাছে, ‘গম্ভীরা’ মালদা জেলাকে অন্যভাবে চিনিয়েছে। তবে আধুনিকতার দাপটে খানিকটা কোনঠাসা মালদার লোকনাটকের এই সংস্কৃতি। তবু আজও মালদা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে, কিছু মানুষ যারা তথাকথিত পরিচিত মুখ নন, তাঁরাই বাঁচিয়ে রেখেছেন এই ধারাকে। সম্প্রতি মালদার একটি নাটকের দল ‘মালদা আগামী’-র নতুন প্রযোজনা ছিল ‘অ্যান ওড টু নানা: গম্ভীরা’। যেটিকে তথাকথিত গম্ভীরা না বলা গেলেও এই সংস্কৃতির বীজ যে নাটকটিতে নিহিত ছিল তা বলা চলে।

এই নাটকটি মূলত একক অভিনয়েই দর্শককে আবিষ্ট করার একটি অন্যরকম প্রয়াস। নাটকের আবহে প্রদীপের আলো, ধুনোর গন্ধ আর খোলা আকাশের নীচে পরিবেশিত এই নাটকটি ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে বাংলা জুড়ে। খোলা আকাশের নীচে মেদুর গম্ভীরার সুরে ভেসেছেন দর্শকরা।

প্রথমবার নাটকটি পরিবেশিত হয়েছিল কোনো বিশেষ মঞ্চে নয়, খোলা আকাশের নীচে, মাটির কাছাকাছি। নিত্যানন্দ মহাপ্রভু ও বীরভদ্রের স্মৃতিধন্য শ্রীপাট গোঁসাইবাড়ির মন্দির প্রাঙ্গনে এই নাটক প্রথমবার দেখতে পাওয়া দর্শকের বেশিরভাগের প্রতিক্রিয়াতেই মুগ্ধতা ফুটে উঠেছে।

নাটকটি প্রাণ পেয়েছে অমলেশ দাসের অভিনয়দক্ষতা ও কোরাস গায়কদের অনন্য পরিবেশনায়। আর তাঁর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন বাদকরা। বিকাশ দাস সহ কোয়েল, পুন্ডরিকদের বাদ্য নাটকের উত্তেজনাকে ধরে রেখেছে শুরু থেকে শেষ অবধি। নাটকটির আলোক-পরিকল্পনাও অসাধারণ। কুনাল-ইমনদের আলোক-পরিকল্পনা নাটকে অন্য মাত্রা এনেছে। আর সবশেষে যার কথা বলতেই হবে তিনি নাটকটির লেখক তথা পরিচালক, জয়ন্ত বিশ্বাস। সমাজের কঠোর বাস্তবতা, অমোঘ পরিনতিকে যেভাবে তিনি উপস্থাপন করেছেন এই নাটকে, তা মুগ্ধ হওয়ার মতোই। আর একটা কথা বলতেই হয় তা হল নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করা অমলেশের সংলাপ ও তার তীক্ষনতা মনে দাগ কাটার মতো।

সম্প্রতি কলকাতায় ‘লোকরঙ্গ-২০১৮’ আন্ত্রর্জাতিক নাট্যমেলায় এই নাটকটি অভিনীত হয়েছে। মাত্র দু’বছরের একটি নাট্যদল যেভাবে সারাবাংলায় ছাপ ফেলছে এবং সৎ প্রচেষ্টা ও সুস্থ চিন্তা নিয়ে কাজ করছে তা সত্যিই প্রসংশনীয়।

 

Facebook Comments