গড় পঞ্চকোট অভিযান

অর্পিতা বসু

আমাদের চূড়ান্ত কর্মব্যস্ত জীবন হঠাৎ করে থেমে গেল। প্রকৃতির জাদু কাটির একটা মন্ত্রবলে। রক্ত চক্ষু দেখিয়ে প্রকৃতি বলল, এবার থামো। অনেক দৌড়েছ, উন্নতির নেশায় আমায় অনেক আঘাত করেছ , আর ‘করোনা’। কত তুচ্ছ আমরা চলেছিলাম প্রকৃতিকে হাতের মুঠোয় রাখতে। এবার প্রকৃতির প্রতিশোধের ধাক্কা সামলাতে গৃহবন্দী হয়ে চুপ করে বসে থাকো। জুজুবুড়ি বা রাবণের থেকেও ভয়ঙ্কর এই’ করোনা’,  তাই সারা বিশ্ব আজ গৃহবন্দী। এসময় শুধু পরিবারের সঙ্গে সময় দিয়ে ছেঁড়া ছেঁড়া সম্পর্ক গুলো ঠিক করে নেওয়ার পালা। তাই সবাই মিলে বসে স্মৃতির অ্যালবাম থেকে বের করে আনলাম মাস ছয়েক আগে ঘুরে আসা গড় পঞ্চকোট অভিযানের কথা। 

কর্মব্যস্ত জীবনে আমরা সবাই ছুটে চলেছি। কিন্তু কেন? বা কাদের জন্য? অবশ্যই পরিবারের জন্য, সন্তান সন্ততির জন্য। এটা আবার জিজ্ঞাসা করার কোন প্রয়োজন আছে? হয়তো একটু প্রয়োজন আছে। ছুটতে ছুটতে আমরা ভুলেই গেছি কেন ছুটছি। যাদের ভালো রাখার জন্য এই প্রয়াস আদৌ তাদের ভালো রাখতে পারছি কি? হ্যাঁ দায়িত্ব – কর্তব্য পালন হয়তো হচ্ছে, খেয়ে – পরে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকা হচ্ছে কিন্তু সম্পর্কগুলোকে সময় দেওয়া হচ্ছে? না হচ্ছে না। তাই যাদের জন্য এত কর্মকান্ড তাদেরই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঝুড়ি ঝুড়ি। 

এই অভিযোগের ঝুড়ি এবার খালি করতেই হবে সংকল্প করলাম। তখন পুজোর ছুটি। কিন্তু আগে থেকে কিছুই ঠিক করা নেই। তাই ট্রেন, প্লেনের ভরসা না করে গাড়ি নিয়ে যতটা যাওয়া সম্ভব যাব ঠিক করলাম দুই ভাই বোনে। একদিনের মনস্থিরে ঘুরতে যাওয়া।হুজুগে বাঙালির ‘উঠল বাই তো কটক যাই।’ যাচ্ছি পুরুলিয়ার গড় পঞ্চকোট। মূলত নির্মল প্রকৃতির অঙ্গনে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নেওয়া আর দুটো খুদের অভিমান – অভিযোগের ঝুড়ি ফাঁকা করাই ছিল উদ্দেশ্য। 

দুর্গা পুজোর পর কালীপুজোর ঠিক আগে জনবিরল, প্রচার জগৎ বিচ্ছিন্ন এ অঞ্চলের একটা সুন্দর রিসর্টও পেয়ে গেলাম। আমার কর্মব্যস্ত বাবা আর ভ্রমণ বিমুখ স্বামীকে টাটা করে ভোর বেলা গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আমি, আমার পাঁচ বছরের খুদে ঋভু, আমার মা, দাদা, বৌদি আর এগারো বছরের খুদে ভাইপো জিষ্নু।গন্তব্য স্থল গড় পঞ্চকোট। 

গড় পঞ্চকোট পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় পঞ্চকোট পাহাড়ের কোলে অবস্থিত একটি প্রত্নস্থল। এই স্থানটি ঐ অঞ্চল শাসনকারী শিখর রাজবংশের রাজধানী ছিল। 

মোটামুটি পাঁচ ঘন্টায়  দাদা পৌঁছে দিল গড় পঞ্চকোট। মাঝে সুন্দর রেস্তোরাঁয় হল প্রাতরাশ। এখানে আসার পথে প্রত্যন্ত গ্রামের গলি দিয়ে এলাম। গাড়ি যাতায়াতের সুস্থ পথ নেই। অলি-গলি দিয়ে মানুষ যাচ্ছে, গরু, ছাগল আর মুরগি চলে বেড়াচ্ছে। তার মধ্যে দিয়েই গাড়িতে বসে “হাট হাট” বলে ওগুলোকে সরিয়ে অনেক কান্ড করে দুপুর বেলা পৌঁছালাম মন্দিরের পিছনে একটা সুন্দর রিসর্টৈ। নাম – “চারুলতা রিসর্ট”। রিসর্টের ভিতরের মনোরম পরিবেশ দেখে মনে হবে না প্রত্যন্ত গ্রামের অত্যন্ত গরীব মানুষের দেশে এসে পড়েছি। বিশাল বড় মাঠ, তাতে স্লিপ, দোলনা, ঢেঁকি, রোল অন, নানা শিশু মনোরঞ্জনের আয়োজন। যা আজকের দিনে আমাদের শহরে দুষ্প্রাপ্য জিনিস। রিসর্টে ছোট ছোট অনেক গুলো কর্টেজ। আর তার পিছনে বড় একটা পাহাড় যেন রিসর্টকে আগলে রেখেছে।কর্টেজের চারিদিকে  অসংখ্য গাছের সারি। নানান রঙের ফুল, প্রজাপতি জায়গাটাকে স্বপ্নিল করে তুলেছিল। বিলাসিতা, খাওয়া দাওয়া আর রিসর্টের ব্যবস্থাপনা দেখে কোন মতে মনে হবে না খুব অভাবী জায়গায় এসেছি। এখানকার মানুষের পরিষেবার কোন তুলনা হয় না। 

বিকেলে আশেপাশের জায়গাটা একটু দেখে নিলাম। ম্যানেজারের কাছে জেনে নিলাম মোট চারটে জায়গা দেখার মত। পরের দিন সকাল থেকে কোথায় কখন যাব পরিকল্পনা করে নিয়ে সবাই সন্ধ্যার ফুরফুরে হাওয়ায় রিসর্টের বিশাল মাঠে শুরু করলাম নির্ভেজাল আড্ডা। জিষ্নু আর ঋভু এত আনন্দ পেয়েছে জায়গাটাকে এসে যে ওরা ওখানেই থেকে যাবে বলে কল্পনায় জাল বুনতে শুরু করল। মামা নাকি রোজ গাড়ি করে পুরুলিয়া থেকে কলকাতায় দুজনকে স্কুলে নিয়ে আসবে। আর মায়ের স্কুল থেকে আসতে দেরি হলেও আপসোস থাকবেনা ঋভুর। সে মাঠে দাদার সাথে খেলবে মন প্রাণ ভরে। এইসব শিশু মনের কল্পনা শুনে ভাবছিলাম সত্যি আমরা যদিও বা শৈশবকে আস্বাদ করেছি এদের কিছুমাত্র সে সুযোগ দিই না, বন্দী  করে রাখি ইঁট কাঠের জঙ্গলে। আবার শান্ত, সংযত, বাধ্য হয়ে চলার মানসিকতাও দাবি করি। ওদের পাওয়া আর আমাদের চাওয়ার মাঝে যে রয়ে গেছে যোজন খানেক দূরত্ব।এই সুন্দর জায়গা আর অবসর সময়কে অনুভব করতে করতেই নিমেষে রাত হয়ে গেল। রাতে আবার খুব যত্ন করে খাওয়ালো “চারুলতা” র ম্যানেজার। যখন যা খেতে চাইবে তাই পাবে কিন্তু পকেট ভারি হতে হবে। অবসর সময় আর মনোরম পরিবেশের শান্তি কিনতে হলে আগে থেকেই জেনে নিতে হবে তা বহুল ব্যয় সাপেক্ষ। 



পরের দিন সকালে বেরিয়ে হাঁটা পথে দেখে নিলাম রাসমন্দির। এখানে টেরাকোটার মন্দির আজ প্রায় ধ্বংস স্তূপ উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে। গড় পঞ্চকোটের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য মন্দির হল একটি পঞ্চরত্ন টেরাকোটা নির্মিত দক্ষিণ ও পূর্বদুয়ারী রাস মন্দির। মন্দিরের গায়ে ফুল ও আলপনার নকশা ছাড়াও খোল, করতাল বাদনরত ও নৃত্যরত মানব-মানবীর মূর্তি পরিলক্ষিত হয়। ষাট ফুট উচ্চ কেন্দ্রীয় চূড়া বিশিষ্ট ভগ্নপ্রায় এই মন্দিরে কোন বিগ্রহ নেই। উত্তরপশ্চিম দিকে অপর একটি পঞ্চরত্ন টেরাকোটা মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, বর্তমানে যার চারটি চূড়া নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ও মধ্যের ৪০ ফুট উচ্চ চূড়াটি অবশিষ্ট রয়েছে। 

এসব দেখে যেমন মুগ্ধ তেমন দুঃখিত হলাম যে সরকার থেকে এসব সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা নেই। জনপ্রচার নেই। তাই আশেপাশের গরিব মানুষ গুলোর টুরিজিম কেন্দ্রিক কোনো কাজ জোটে না, কোন ব্যবসা নেই। শুধু গরু,ছাগল, মুরগি প্রতিপালনে ওদের দিন আনা দিন খাওয়া চলে। সারা বছরে একশো জন ট্যুরিস্ট ও হয় না। অথচ বিশাল বিশাল জায়গা নিয়ে খানকতক রিসর্ট খুলে রেখেছে। সরকারের এই পর্যটনের দিকটা দেখা উচিত ভেবে স্যোশাল মিডিয়ায় জনপ্রচারের চেষ্টা করলাম। 

গাড়ি নিয়ে এবার যাব পাঞ্চেত ড্যাম আর জয়চন্ডীর মন্দির দেখতে। লক্ষ্য করলাম, রিসর্টের থেকে বেরিয়ে কয়েক পা হাঁটলেই পাশাপাশি দুটো চটি বা ধাবা বা খুব ছোট খাবার হোটেল রয়েছে। এতই ছোট যে আসার সময়  চোখেই পড়েনি। 

গাছের তলায় ত্রিপলের ছাউনি দেওয়া দোকান। সামনে বড় মাঠে ওদেরই পোষা মুরগি ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর মাঠের কোণায় খাটিয়া পাতা। সেখানে দুজন টুরিস্ট বসে চা খাচ্ছে। আমরা দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে দেখলাম ওইটুকু জায়গায় চা হচ্ছে। সিগারেট থেকে সিঙারা সব পাওয়া যাচ্ছে। গরম গরম ডিম পাউরুটি ভেজে সাল পাতায় দিল। খাটিয়ায় বসে দারুণ প্রাতরাশ হল। সঙ্গে জানা গেল কিছু টাকা অগ্রিম দিয়ে দুপুর, রাতের খাবার পাওয়া যায়। ওদের চড়ে বেরানো মুরগির ডিম দিয়ে পাউরুটি ভাজা খেলাম। আবার ওদের মুরগি কিনে নিলে ওরা খাবার বানিয়ে দেবে যে পরিমাণ টাকার বিনিময়ে তা শুনে আমরা অবাক হলাম। দুপুরে রিসর্টে খাবার বলা ছিল, তাই এদের কাছে রাতের খাবারের  ওর্ডার দেওয়া হল। পরের দিন সকালেই ফেরার পালা। তাই পরের দিন সকালে সকলের প্রিয় ম্যাগী বানিয়ে দিতে বলা হল। 

ডিম টোস্ট খেয়ে গাড়ি নিয়ে পৌঁছালাম বিশাল বড় পাঞ্চেত বাঁধ দেখতে। বাঁধের উপর বড় ব্রীজের মধ্যে গাড়ি ঘুরিয়ে চললাম মন্দির দর্শন করতে। পাহাড় কেটে চারশো আশিটা  সিঁড়ি বানানো। তা অতিক্রম করে মায়ের দর্শন মিলবে। আমার মা মাঝরাস্তায় হাঁপিয়ে বসে পড়ল। কিন্তু পুচকে ঋভু জিষ্নু দাদার সাথে সিঁড়ি গুনতে গুনতে পৌঁছাল মা জয়চন্ডীদেবীর মন্দিরে। ওখানে বজ্রঙ্গবলীরও মন্দির আছে দেখে ঋভুর আনন্দ আর ধরে না। ও মহাবলী হনুমান দেখে হনুমান জীর ভক্ত হয়েছে ওর বাবার মত। পাহাড়ের অনেকটা উঁচু থেকে সমস্ত জায়গাটা অপূর্ব লাগছে। এত সুন্দর দূষণ মুক্ত পরিষ্কার আকাশ, পরিবেশ আমাদের বারবার বাকরুদ্ধ করেছে। এই শান্ত, নির্মল প্রকৃতির অঙ্গনে থাকার সৌভাগ্য আমরা নিজে হাতে নষ্ট করেছি। আমাদের অবস্থা কালিদাসের মত-যে পরিবেশে আছি তাকেই দূষিত করেছি। এখন প্রকৃতির জবাব দেওয়ার পালা। অসহায়ের মত তা মেনে নেওয়া ছাড়া আমাদের কোন গতি নেই। 

দুপুরে রিসর্টে ফিরে ভাত, ডাল, ঝুরি আলু-ভাজা, আলু পোস্ত, চিকেন কারী খেলাম তৃপ্তি করে। তারপরই বেরিয়ে পড়লাম রিসর্টে র পিছনের বড় পাহাড়ী রাস্তায় হাঁটতে। অনেকটা হাঁটলে নাকি একটা অর্ধ ভগ্ন মন্দিরের দেখা মিলবে। বিকেল হলেই  মাঝ পথ থেকেই ফিরে এলাম। আমাদের বড়ন্তী লেক দেখে ফিরতে হবে রাত হওয়ার আগে। গাড়ি নিয়ে ভাঙা গ্রাম্যপথে চলা বিষম দায়। বড় একটা লেকের সামনে গিয়ে দেখলাম মনোরম সূর্যাস্ত। ধীরে ধীরে বড়ন্তীর বুকে সূর্য তার গলে পড়া কমলা আভা নিয়ে যেন আত্মসমর্পণ করল। অবশেষে বড়ন্তীর জলে শুধু রয়ে গেল লাল আভা। অপূর্ব এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাক্ষী হয়ে ফিরে এলাম। কলকাতায়ও প্রতি দিন সূর্য উদয় হয়, অস্ত যায় কিন্তু কর্ম ব্যস্ত আমাদের সময় হয় না বিশাল অট্টালিকা, ইঁট কাঠের জঙ্গলের বাধা অতিক্রম করে সেই সৌন্দর্য উপভোগ করার। তখন মন যান্ত্রিকতার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে নিথর। 

রাত নটায় আমরা খেতে গেলাম রিসর্টের বাইরের হোটেলে। নিঝুম অন্ধকারে ভরসা মোবাইলের টর্চ। রাস্তায় যেমন আলো নেই তেমন একটা জনমানব নেই। হোটেলে স্বামী স্ত্রী দুজন টিমটিমে একটা আলো জ্বালিয়ে শুধু মাত্র অপেক্ষা করছে আমাদের। আমাদের দেখেই একগাল হেসে বসতে দিল পেঁপে গাছের তলায় পাতা নীলকমলের চেয়ারে। মাঝখানে বড় একটা টেবিল। সাল পাতার থালায় নুন লেবু দিয়ে স্বামী স্ত্রী দুজনে মিলে পরম যত্নে পরিবেষণ শুরু করল-গরম ভাত, সব্জি ডাল, আলু ভাজা, আলু পোস্ত, পেঁপের তরকারি, আলু দিয়ে মাংসের ঝোল। গরম গরম খাবার, তার সাথে গরিব মানুষ গুলোর আন্তরিকতা ছিল উপরি পাওনা। যে পেঁপে গাছের তলায় বসেছি ওই গাছের পেঁপেই খেলাম। কথায় কথায় জানলাম ওরা আমাদের খাওয়ার পর যা থাকবে তাই খেয়ে দোকান বন্ধ করে স্কুটারে করে এই অন্ধকার রাস্তায়  যাবে সাত কিলোমিটার পথ। তবু ওদের আন্তরিকতার মধ্যে কোন ত্রুটি ছিল না। আমরা খাওয়ার পর আমাদের কিনে দেওয়া বলে ওই রান্না মাংসের অবশিষ্ট টা আমাদের দিয়ে দিতে চাইল। গরিব মানুষের টাকা না থাকলেও যেমন মান আছে তেমনি আছে সততা। আমরা জোর করে ওই রান্না মাংস ওদের খেয়ে নিতে বললাম। তারপরও ছয় জনের খাওয়ার যে বিল হল তা দেখে মনে হল আমরা কত বোকা যে রিসর্টে এক এক বেলা এর তিন গুণ টাকা খরচ করছিলাম খাওয়ার জন্য। তবু এই সাল পাতায়, গাছের তলায় বসে খাওয়ার আনন্দ আর আন্তরিক আতিথেয়তা সেখানে নেই। সেখানে আছে অফিসিয়াল ফেসিলিটি আর যতক্ষণ তোমার পকেট ভারী ততক্ষণ পরিষেবা ও সম্মান। 

রাতের অন্ধকারে ফিরলাম রিসর্টে। মাঠে গিয়ে বসলাম সবাই। বিশাল পাহাড়টা যেন দৈত্যের মত দাঁড়িয়ে আমাদের পাহাড়া দিচ্ছে। আমাদেরও মনটা শিশুদের মত অবুঝ হতে চাইছে। রাত কাটলেই আবার ফেরার পালা ভাবলেই মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। বেশ রাত পর্যন্ত সব গল্প করে শুয়ে পড়লাম। 

সকাল সকাল উঠে ঋভু আর জিষ্নু মাঠে খেলতে ছুটল। একটুও সময় নষ্ট না করে ওরা যতটা সম্ভব আশ মিটিয়ে খেলে নিতে চাইল। আমাদের ও খানিকটা তেমনি অবস্থা। দাদা, বৌদি, মা, আমি প্রাতঃভ্রমণ করে নিলাম কিছুক্ষণ। তারপর রিসর্টের সব হিসেব নিকেষ মিটিয়ে আবার আসব ভেবে মনকে  সান্ত্বনা দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। তখন ছোট ছোট কয়েকটা ছেলে খেজুর গাছের পাতা দিয়ে সুন্দর ঘর সাজানোর ফুল বানিয়ে এনে বিক্রি করল। একজনেরটা নিয়ে বিপত্তি। প্রত্যেকে বলে আমারটা নাও। আমরা বেশ কয়েকটা কিনলাম। শুনলাম ওরা কেউ কেউ স্কুলই যায় না। কাজ করে বাবা মার সাথে। এদের জন্য সত্যিই কিছু করা দরকার। সমাজসেবী সংস্থার আর সরকারী পর্যটন কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই হবে। 

মাঠের কাছে এসে খাটিয়ায় বসে সব্জি, পেঁয়াজ, ডিম দিয়ে বানানো গরম গরম সুস্বাদু  ম্যাগী খেয়ে মন ভরে গেল। বিলের উপর কিছু বেশি টাকা ওদের দিয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম ইট কাঠ জঙ্গলের পথে। ওই সহজ সরল মানুষ গুলোর মুখের নির্ভেজাল হাসি আর নির্মল প্রকৃতির আবেশ নিয়ে ফিরলাম। মনে মনে সংকল্প করলাম আবার ফিরে যাব অনেক জামা কাপড়, বই খাতা, খাবার, আর পর্যটক নিয়ে। যাতে ওদের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়।

Facebook Comments