ভূতে অবিশ্বাস করেন? ঘুরে আসুন বোরলে রেকটরি


ভ্রমণপিপাসুদের কথাই ধরা যাক, বছরের বিভিন্ন সময় দেশ অথবা দেশের বাইরে বিভিন্ন জায়গায় তারা বেড়াতে যান। এ সময় তারা ব্যাতিক্রম কিছু দর্শনীয় স্থান খোঁজার চেষ্টা করেন। স্থানটির সঙ্গে যদি ভূতের সংশ্লিষ্টতা থাকে তাহলে ওই স্থান বা স্থাপনাটিই হয় দর্শনীয় বস্তু। পৃথিবীতে এমন দর্শনীয় জায়গার অভাব নেই। মজার ব্যাপার ভূতের কারণে জায়গাগুলো রীতিমতো বিখ্যাত! এমনই একটি স্থান বোরলে রেকটরি। এটি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ভৌতিক জায়গা হিসেবে পরিচিত। আসলে এটিকে জায়গা না বলে একটি বাড়ি বলাই ভালো। বাড়িটি যুক্তরাজ্যের বোরলে গ্রামে।

ঘটনা হলো, ১৮৬৩ সালে রেভারেন্ড হেনরি নিজের জন্য বোরলে গ্রামে একুটি বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়িতে স্ত্রী এবং ১৪ জন ছেলেমেয়ে নিয়ে তিনি বাস করতেন। তাদের সুখের সংসার ছিল। কিন্তু ১৯৩৯ সালে একটি ঘটনা সব তছনছ করে দিল। সে বছর অগ্নিকাণ্ডে বাড়িটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এরপর থেকেই এই বাড়িতে একের পর এক ভূতুড়ে কাণ্ড ঘটতে থাকে। কিন্তু অনেকের মতে, এর পেছনে ছিল এক হৃদয় বিদারক প্রেমকাহিনি।


বোরলের নান এক সন্ন্যাসিনীর প্রেমে পড়েন। তারা দুজনে পালিয়ে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তারা পরিকল্পনা করে পালিয়েও যান। কিন্তু পথে তারা ধরা পড়েন। এই ঘটনার বিচারে প্রেমিকা সন্ন্যাসিনীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। এবং নানকে এই বাড়ির সুউচ্চ প্রাচীর থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়। মতান্তরে নানকে এই বাড়িতে পুড়িয়ে মারা হয়। এরপর থেকেই বাড়িটি ঘিরে অদ্ভুত সব কাণ্ড ঘটতে দেখা যায়। ১৯৪৪ সালে ‘লাইফ’ ম্যাগাজিন এ বিষয়ে একটি ফিচার প্রকাশ করে। এবং এটি করতে গিয়ে ম্যাগাজিনের ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় এমন কিছু বিষয় ধরা পড়ে যেগুলোর কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না। যেমন ফটোগ্রাফার যখন বাড়ির ছবি তুলতে যান তখন বাড়ির ভেতরে দরজার আড়াল থেকে তার দিকে ইটের টুকরো ছুঁড়ে মারা হয়। কিন্তু অনেক খুঁজেও পরে আর সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনা পত্রিকায় প্রকাশ হলে বাড়িটি নিয়ে কৌতূহলী মানুষের আগ্রহ বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে সেই কৌতূহল ছড়িয়ে পরে বিশ্বময়।   

Facebook Comments