বিয়ের স্ট্রেস কাটানোর কয়েকটি সহজ কৌশল

বিয়ে মানেই একটা নতুন জীবনে প্রবেশ। সঙ্গে নতুন পরিবার, নতুন মানুষ, আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া, এই সবকিছুই জড়িয়ে থাকে।  কাজেই  একটি মেয়ে বা ছেলের বিয়ে ঠিক হলে তাদের ভিতরে প্রচন্ড একটা স্ট্রেস কাজ করে। হয়তো তারা একে অপরকে অনেকদিন ধরেই চেনে কিন্তু তবুও বিয়ে ঠিক হলে একটা অজানা চিন্তা মনের মধ্যে ঘুরপাক খায়। আর যদি সম্বন্ধ করে বিয়ে হয় তাহলে তো কথাই নেই, চিন্তাটা দ্বিগুণ হয়ে যায়। নতুন মানুষটা কেমন হবে, তার পরিবারের লোকেরা কেমন হবেন, তাদের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে চলা যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে নতুন জীবনে প্রবেশ করার আগে এবং নতুন জীবনকে উপভোগ করতে এই মানসিক চিন্তাগুলোকে দূরে সরিয়ে রাখাই ভালো। তার জন্য কয়েকটি বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

১। প্রয়োজনীয় বিষয়ের প্রতি নজর রাখুন

বিয়েতে প্রচুর আয়োজনের ব্যাপার থাকে, সঙ্গে প্রচুর কাজও থাকে। প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যায় অনেকদিন আগে থেকেই। যদিও বর বা কনেকে কোনও কাজই করতে দেওয়া হয় না। কিন্তু এখন যেহেতু বেশিরভাগ পরিবারই নিউক্লিয়ার পরিবার তাই অনেক বিয়েতেই বর-কনে উভয়েই প্রত্যক্ষভাবে তত্ত্বাবধানের কাজগুলো করেন। এক্ষেত্রে ভালো হবে ছোটখাট কাজগুলো অন্য কাউকে দিয়ে করিয়ে নিন। বেশি প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো নিজে করুন। এতে অহেতুক চিন্তা মনের মধ্যে আসবে না।

২। বন্ধুদের সাহায্য নিন

বিয়ের অনুষ্ঠানে বন্ধুদের থাকাটা বেশ বড় ব্যাপার। বিয়ের অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে তুলতে নাচে গানে ভরিয়ে দিতে পারে বন্ধুরাই। এর পাশাপাশি বিয়ের মূল অনুষ্ঠানে তাদের সাহায্য নিন। ক্যাটারার, বাসর ঘরের সাজ, ফুলশয্যার খাট সাজানো এসব ক্ষেত্রে বন্ধুদের সাহায্য নিতে পারেন। আপনার বন্ধুরা পছন্দ মতোই সব গুছিয়ে করে দেবে।

৩। স্বাচ্ছন্দ্যেকে গুরুত্ব দিন

যে পরিবারে আপনার বিয়ে হচ্ছে, তাদের নানা রকম চাহিদা, চিন্তাভাবনা থাকতেই পারে। কিন্তু সবক্ষেত্রে তাদের সেই চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে বা মেনে নিতে এমনটা নয়। তাদের হয়তো ইচ্ছে আপনি রিসেপশনের দিন ভারি জমকালো বেনারসি পরুন। কিন্তু ভারি ড্রেস ক্যারি করতে আপনার অসুবিধা হয়। সেক্ষেত্রে নিজের স্বাচ্ছন্দের কথা মাথা রেখেই হালকা ওজনে এখটু গর্জিয়াস শাড়ি পরতে পারেন। ছেলেদের ক্ষেত্রে ভারি শেরওয়ানি পরতে সমস্যা হলে পাঞ্জাবি পরাই শ্রেয়। অনেক মেয়ের আবার মনে হয় বিয়ের আগে যেন একটু বেশি মোটা মোটা লাগছে, এমনটা হলে শর্ট টাইমের কোনও যোগা ক্লাসে জয়েন করতে পারেন অথবা বাড়িতেই কিছু ফ্রি হ্যান্ড এক্সাসাইজ করতে পারেন। তবে অবশ্যই তার আগে হাইজ ফিজিসিয়ানের সঙ্গে কনসাল্ট করে নেওয়া জরুরি।



৪। পজিটিভ ভাবুন

এই সময় কোনও রকম নেগেটিভ চিন্তাভাবনা মনের মধ্যে রাখবেন না। সব সময় পজেটিভ চিন্তা করুন। যে বাড়িতে যাবেন সেই বাড়ির মানুষগুলোকে একটু একটু করে চেনার চেষ্টা করুন। তাদের ভালোলাগা, খারাপলাগা বিষয়গুলো বুঝুন। সবথেকে ভালো হয় যদি তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নিতে পারেন। মাঝে মধ্যে তাদের খোঁজ নিন, তারাও দেখবেন আপনার খোঁজ নেবে। নতুন সঙ্গীর সঙ্গে হানিমুন ট্রিপের প্ল্যান করুন। একে অপরের সঙ্গে আলাদা করে সময় কাটালে তবেই ভালো করে চেনা যায়, বোঝা যায়। দুজনে ভালো ভালো মুহূর্ত কাটান।

৫। স্ট্রেস ভাগ করে নিন

একটু একটু করে বিয়ের দিন এগোলে স্ট্রেসও বাড়তে থাকে, তাই সেই বাড়তে থাকা স্ট্রেস শেয়ার করুন আপনার হবু জীবনসঙ্গীর সঙ্গে। এতে অনেকটাই হালকা হবেন। মানসিক চাপও কমবে। নিজের কথা যেমন জানাবেন, তেমন তার কথাও শুনবেন। প্রেম করে বিয়ে হলে ব্যাপারটা অনেকটা সহজ হয়ে যায়। তবে সম্বন্ধ করে বিয়ে হলেও চিন্তা নেই, কারণ এখন বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আলাপচারিতা চলতেই থাকে। একে অন্যের স্ট্রেস ভাগ করে নিলে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বটাও বেশ ভালো হবে। এবং পরবর্তীকালে কোনও সমস্যা হলে সেটা কীভাবে সামলেন তারও একটা আগাম ইঙ্গিত পাবেন। কারণ আপনার জীবনসঙ্গীটি কোন পরিস্থিতি কীভাবে সামলাতে চান তার একটা আভাস জানা থাকবে।

 

Facebook Comments