জানেন রোজ কারণে-অকারণে রাত জাগলে কী হয়?

প্রকৃতির নিয়মে রাত ঘুমানোর জন্যই। তবে এই ব্যস্ত জীবনের নানা প্রয়োজনে আমাদের প্রায় সবাইকে কখনও না কখনও রাত জাগতে হয়। একদিন দুদিন রাত জাগতে জাগতে কবে কবে রাত জাগায় আমরা অভ্যস্ত হয়ে উঠি নিজেরাই বুঝতে পারিনা। যিনি রাতে জেগে থাকেন তাঁর আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে, কই কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তো! কিন্তু জেনে রাখুন চিকিৎসাবিজ্ঞানকিন্তু অন্য কথা বলছে। রাত জাগার বেশ কিছু নেতিবাচক দিক রয়েছে। জেনে নিন রাত জাগার কয়েকটি কুফল-

কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে, দিনের বেলা দেহ ও মন কর্মক্ষম রাখতে রাতে মানুষের ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। তবে এই ঘুমে অনিয়ম কিন্তু মানুষের কাজের উদ্যম কমিয়ে দিতে পারে। এমনকি রাতে ঘুম কম হলে মানুষের ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। তাই রাতে ঘুমনো কিন্তু খুব জরুরী।

মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে

বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যারা প্রায়ই রাত জাগেন তাদের উদ্বিগ্নতা, অবসাদ ও বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভোগার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ এক ভয়ঙ্কর সমস্যা। এমনকি রাতে না ঘুমানোর সঙ্গে আত্মহত্মার প্রবণতারও সম্পর্ক রয়েছে বলে জানিয়েছেন অনেক গবেষক।

চেহারায় মলিনতা ফুটে ওঠে

যারা রাতে জেগে থাকেন, নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়ার পরও ব্রণ বা চোখের চারপাশে কালো দাগ তাঁদের নিত্যদিনকার সমস্যা। এই কারণে অকালে চেহারায় বয়সের ছাপ ও ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই আজ থেকে চেষ্টা করুন রাতে ঘুমানোর, সে কাজের চাপ যতই থাক।



ইমিউনিটি পাওয়ার কমে যেতে পারে

চিকিৎসকরা বলছেন, যারা নিয়মিত রাত জাগেন তাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, শারীরিক স্থূলতা এমনকি স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি থাকে। বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে মানুষ যতো বেশি রাত জাগে ততই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে থাকে। শরীরের অন্যাক্রমতা বা ইমিউনিটি পাওয়ার ক্রমশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

দৈহিক ভারসাম্য হারায়

মানুষের শরীরে তার অভ্যন্তরীণ নানা কাজ দেহের নিজস্ব সময় অনুযায়ী চলে। রাত জাগার ফলে দেহের নিজস্ব কার্যকলাপ বিঘ্নিত হয়। এমনকি দেহের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই সাবধান হয়ে যান আজই।

 

Facebook Comments