কাছের মানুষটা কি ক্রমশ অচেনা হয়ে উঠছে? জেনে নিন সমস্যা কোথায়

পৃথিবীতে প্রত্যেকটা মানুষেরই সঙ্গীর প্রয়োজন। একা সারভাইভ করা খুবই কষ্টকর। সকলেই চায় জীবনটা একটু স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে। আর এতে প্রধান অন্তরায় হয় মন। সবচেয়ে বড় কথা মানুষের জীবনে মনের শান্তিই আসল শান্তি। আর তা  সেটা যদি না থাকে আপনার কাছে প্রচুর অর্থ থাকলেও দেখবেন কোনো না কোনো ভাবে মানসিক অবসাদ আপনাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। আর স্বাচ্ছন্দ্য বা সুখ আপনার থেকে বেশ খানিকটা ডিস্টেন্স মেন্টেন করছে।

বিবাহিত জীবনে সুখের প্রত্যাশী সকলেই। তবে বিয়ের কয়েক মাস বা কয়েক বছরের মধ্যেই এমন কিছু সমস্যা দেখা দেয়, যখন মানুষ বড় একা হয়ে পড়ে। সব থেকেও নিজেকে নিঃস্ব মনে হয় তখন। আপনার জীবনেও যদি এমন সমস্যা থাকে তবে আপনাকে সমস্যার শিকড়ে পৌঁছতে হবে সবার আগে। তারপর অন্য কিছু।

বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই কি আপনার পার্টনারের মধ্যে বিরাট কিছু পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছেন? ক্রমশ কি আপনাদের মানসিক দূরত্ব বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে? উনি কি আগের মতো ফ্রি টাইমে ফোন করে খোঁজ নেন না, কিংবা অন্তত একটা মেসেজ করেন না,  সবই ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেছে? যখনই আপনার জন্য একটু সময় চান, তখনই কি শুনতে হয় অফিসে কাজের চাপ, বাড়ি ফিরতে দেরি হবে। আর ছুটির দিনে যদিওবা বাড়িতে থাকেন, নয় নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত, না হলে মোবাইল বা ল্যাপটপে মুখ গুঁজে পড়ে আছেন। এমনটাই কি আপনার বর্তমান পরিস্থিতি?

মোদ্দা কথা নিজের মতো করেই আপনার পার্টনার জীবন উপোভোগ করছেন। যখনই মনে হচ্ছে বাইরে লাঞ্চ বা ডিনারে চলে যাচ্ছেন বা অন্য কোথাও ঘুরতে চলে যাচ্ছে। অথচ আপনার কথা এক বারের জন্য মাথায় আনছেন না। এসব যদি হয়ে থাকে তবে তা কিন্তু কোনও শুভ লক্ষণ নয়। অনেক সময়ই বিবাহিত জীবনের মধ্যে কোনো তৃতীয় ব্যক্তি ঢুকে পড়লে এই পরিবর্তনগুলি দেখা দেয়। কিন্তু বুঝবেন কী করে আপনার ধারণাগুলো একেবারে সঠিক?

জেনে নেওয়া যাক এ-ব্যাপারে কয়েকটা কথা। যেগুলো থেকে আপনার বুঝতে সুবিধা হবে কিছু অনর্থ হতে চলেছে। আপনার স্বামীর ফোনের পাসওয়ার্ড এতদিন আপনার কাছে ছিল জলভাত। কিন্তু এখন সেই পাসওয়ার্ড কি বদলে গেছে? নতুন করে পাসওয়ার্ড দেওয়া এবং প্রতিটি অ্যাপে পাসওয়ার্ড দিয়ে রাখা – এগুলি কোনোটাই চোখ এড়িয়ে যাওয়ার বিষয় নয়। সব সময় আগলে নিজের কাছে ফোন রাখা এবং কেউ ফোন করলে আড়ালে গিয়ে মৃদু কণ্ঠে কথা বলার মধ্যেও কিন্তু অন্য ফ্যাক্টর কাজ করে। এখান থেকেই বোঝা যায় আপনার স্বামী প্রতিনিয়তই আপনার থেকে কিছু গোপন করে চলেছে। তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন স্বামীকে যদি খুব ছোট বিষয় নিয়ে দিনের পর দিন বলতে থাকেন, তাহলে কিন্তু তিনি তার বান্ধবীকে ফোন করেছে একথাও আর আপনাকে বলতে পারবেন না। তাই নিজের মাইন্ডকেও একটু ওপেন রাখুন।

আর একটা বিষয় একটু লক্ষ্য করুন। আপনার পার্টনার আপনার সঙ্গে আগের মতো ভালো ব্যবহার করছেন কিনা। মনের কথা শেয়ার করার মতো সময় এখন আপনার স্বামীর কাছে আছে কিনা। এখন কোনো বিষয়ে কিছু জানতে চাইলে অনেকক্ষণ ভেবে উত্তর দেন কিনা। একটু ভালো করে লক্ষ্য করুন সব সময় তাঁর ভেতর একটা এড়িয়ে যাবার প্রবণতা দেখা দিয়েছে কিনা। যদি দেখা দেয় তবে বিপদ শিয়রে দাঁড়িয়ে।

খেয়াল করুন আপনার পার্টনারের সাজের বাহার আগের থেকে বেড়েছে কিনা। আগে যখন আপনারা দু-জনে ছিলেন সুখী দম্পতি, তখনও কি এতটাই স্মার্ট থাকার চেষ্টা করতেন আপনার স্বামী? নাকি এখন নিত্যনতুন দামি দামি পোশাকে নিজেকে সাজিয়ে তুলছেন? তবে এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে কার জন্য? আপনাকেই বুদ্ধি দিয়ে এই রহস্যের উদঘাটন করতে হবে।



আরও একটি বিষয় যেটি আপনিই সবথেকে ভালো প্রত্যক্ষ করতে পারবেন। যদি তার মন পড়ে থাকে অন্য কোথাও, তাহলে আপনাদের যৌনসম্পর্ক ব্যহত হবেই। তাঁর মন তখন চাইবে নতুনত্বের স্বাদ পেতে। কিন্তু এটা তো আপনার জন্য মোটেই ভালো কথা নয়। কোথায় গিয়ে কী করছেন বা কার সঙ্গে আপনার স্বামী সময় কাটাচ্ছেন। চেষ্টা করুন এগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য কী ভাবে জানা যায়। ব্যাপারটা গোয়েন্দাগিরির মতো নয়ও মোটেই। ভাবতে খারাপ লাগলেও প্রিয়জনের ভালোর জন্য, নিজেদের আগামীর দিনগুলো সুখকর করার জন্য আপনাকে তো নড়েচড়ে বসতেই হবে।

Facebook Comments