জাঙ্ক ফুড শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর?

রুমুন চক্রবর্তী

আমাদের শরীর খারাপ হ’লে আমরা প্রায়শই মা-কাকিমাদের বলতে শুনি, “তোদের বয়সে আমাদের বাপু এতো ব্যারাম হতো না কারণ আমরা যেটুকু খেয়েছি খাঁটি খেয়েছি। আমাদের সময়ে তো এখনকার মত এতো কিছু এটা-সেটা ভেজাল খাবার পাওয়া যেত না রাস্তাঘাটে। তাই ঘরের খেয়ে শরীরটা ঠিক থাকত”।

এই ভেজাল বলতে ওনারা আসলে যেটা বোঝান সেটা হ’ল আমাদের এই আধুনিক জীবনের সাথে জড়িয়ে যাওয়া একটা ওতপ্রোত বিষয় যার নাম‘ফাস্ট ফুড’ বা ‘জাঙ্ক ফুড’। ফাস্ট শব্দের অর্থ হ’ল চটজলদি আর  জাঙ্ক শব্দের অর্থ হ’ল চেতনা নাশক মাদক বিশেষ (যেটি প্রধানত মরফিন থেকে প্রস্তুত করা হ’য়ে থাকে)। এই ‘জাঙ্ক’ শব্দটি থেকেই এসেছে ‘জাঙ্কি’। যার অর্থ মাদকাশক্ত বা নেশাখোর ব্যক্তি। তাহলে এই দু’য়ে মিলে যা দাঁড়াল তা হ’ল চটজলদি লোভনীয় খাবার।

এখন বাইরে বেরিয়ে আমাদের চারপাশে চোখ বোলালেই দেখতে পাই রাস্তার ধারে, বাস স্ট্যান্ডে, রেলওয়ে স্টেশনে, বিমানবন্দরে, অফিস পাড়ায়,এমনকি পাড়ার অলিতে গলিতেও সারি সারি চটজলদি বানিয়ে ফেলা খাবারের অর্থাৎ ফাস্ট ফুডের দোকান। ব্যাপারীরা জিভে জল আনা নানান জাঙ্ক ফুডের পসরা সাজিয়ে বসেন কখনো একটা ঠেলার ওপরে, কখনো ছোট গুমটিতে আবার কখনোবা পাকা দোকানে। রাস্তার ধুলো, মাছি, অপরিষ্কার বাসনপত্র, অপরিশোধিত জল – এই সমস্ত অস্বাস্থ্যকর দিকগুলোর কথা ভুলে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়ে ওই সব খাবারের লোভে। এইখানেই এই খাবারের নামকরণের সার্থকতা। সত্যিই মানুষ আসক্ত হয়ে পড়ে এর রূপ, গন্ধ ও স্বাদের হাতছানিতে। মূলত সময়স্বল্পতা আর সহজলভ্যতার কারনেই আমরা বাইরের জাঙ্ক ফুডের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছি। সেইসব খাবারের মান এবং এগুলো কতটুকু নিরাপদ তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আমরা কিন্তু সরে আসতে পারছি না। আর এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই ব্যাঙের ছাতার মত বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠছে ফাস্টফুডের দোকান।

আজকালকার বাচ্চাদের বেশির ভাগেরই বাড়ি থেকে অভিযোগ আসে ডাক্তারের কাছে যে বাচ্চা ভাত, ডাল, মাছ, মুড়ি, চিঁড়ে খেতেই চায় না। তারা ভালোবাসে বার্গার, পিৎজা, মোমো, মশলা ধোসা, রোল, চাউমিন, সসেজ, নাগেটস্‌। কেন্টাকি, ম্যাকডোনালডস্‌, সমুচা, ভেঙ্কিজ, ম্যাগি – এসব নাম তাদের মুখে মুখে ঘোরে। এই সব রকমের খাবারই হ’ল জাঙ্ক ফুড। এগুলো যতই লোভনীয় হোক না কেন শরীরে এর কুপ্রভাব পড়ে নানা ভাবে। আসুন দেখা যাক জাঙ্ক ফুড আমাদের কী কী ভাবে ক্ষতি করছে।

এর ভয়াবহ প্রভাবের কথা বলতে গেলে প্রথমেই যে দুটোর কথা বলতে হয় তা হ’ল ওবেসিটি বা স্থুলতা এবং বন্ধ্যাত্ব বা ইনফার্টিলিটি। এখন ইনফার্টিলিটি লাইফস্টাইল ডিজিজ হয়ে গেছে। যদিও সন্তানহীনতার সমস্যা বড়দের সমস্যা, তবুও এই সমস্যার বীজ রোপন হয় শৈশবেই। তার কারণ আমাদের আধুনিক জীবনযাত্রা। আগেকার দিনে বাচ্চারা যৌথ পরিবারে বড় হত। একসাথে সবাই খেলাধুলো করত। এখন ছোট ফ্ল্যাটে চার দেওয়ালের গণ্ডীবদ্ধ জীবনে তারা একা বড় হওয়ায় দৈহিক কসরত ও খেলাধুলোর সুযোগ প্রায় নেইই। এদিকে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পড়ার চাপ, বইয়ের বোঝা। তারা ব্যস্ত হয়েছে প্রাইভেট টিউশন, কম্পিউটার, গান, নাচ, ক্যারাটে, ক্রিকেট, ফুটবল ইত্যাদি নানান বিষয়ে। বিনোদন বলতে টিভি আর মোবাইল গেমস। সময়াভাবে বদলেছে খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস। এখনকার বেশিরভাগ সংসারই ছোট। তাই স্বামী-স্ত্রী দুজনেই কর্মরত হওয়ায়, মহিলারা রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে সক্ষম হচ্ছেন না। বাড়িতে দ্বিতীয় কেউ না থাকায় বাচ্চা বড় সবাইকেই বাইরের খাবারের ওপর নির্ভরশীল হতে হচ্ছে। ফলস্বরূপ আগেকার ট্র্যাডিশনাল খাবারের পরিবর্তে অভ্যস্ত হ’য়ে পড়ছে বাইরের জাঙ্ক ফুডে। অনেকের পরিবারেই সপ্তাহে বা মাসে একদিন সদলবলে রেস্তোরাঁয় খাওয়ার রেওয়াজ আছে। কিন্তু এখন অনেকে প্রায় প্রতিদিনই খাবার আনিয়ে নেন বাইরে থেকে। হোম ডেলিভারি তো আছেই, এমনকী মোবাইল অ্যাপসেই অর্ডার দেন খাবারের, যাতে একটু দূর থেকেও পছন্দসই খাবার আনানো যায় বিনা শ্রমে। আগে রোজকার বাড়ির খাবারে ক্যালোরি,প্রোটিন, ভিটামিনের যে ভারসাম্য থাকত, এখন বাইরের খাবারে তা সেভাবে থাকছে না। সব মিলিয়ে জীবনযাত্রার এই ধরন বদলানোর সঙ্গেই বাড়ছে ছোটদের স্থূলত্ব।

মেয়েদের ক্ষেত্রে এই ওবেসিটি বা স্থূলত্বের কারণে হচ্ছে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম। এটি কোন রোগ না হ’লেও এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে, যাতে মোটা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কিছু পরিবর্তন আসে। স্থূল মেয়েদের শরীরে মেল হরমোনের প্রভাব পুরুষালি ভাব, গলার পাশে পিগমেন্টেশন, গায়ে, হাতে, পায়ে, জুলফিতে লোমের আধিক্য দেখা যায়। এছাড়া ঋতুস্রাবের সময় হরমোনের তারতম্যে ওভ্যুলেশন না হওয়ায় একটা ভারসাম্যহীনতা দেখা যায়। নির্গত না হওয়া ডিমগুলি ওভারির সারফেসে জমা হতে থাকে যা সোনোগ্রাফিতে ধরা পড়ে। কাব্যিক আঙ্গিকে একে বলা হয়‘কুইনস নেকলেস’।
মেয়েদের পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের ওভিউলেশনের এই সমস্যা ভবিষ্যতে ইনফার্টিলিটির আশঙ্কা বাড়ায়। এটির জন্য অনেকাংশেই দায়ী আমাদের এই জাঙ্ক ফুডের অভ্যাস। শুধু তাই নয়, আজকাল হাই রিস্ক প্রেগনেন্সি, মিসক্যারেজ – এসবও বাড়ছে এই জাঙ্ক ফুড খাওয়ার কারণেই।

আজকাল ছেলেরাও ছোট থেকেই স্থূলত্বের শিকার। অতিরিক্ত বাইরের খাবারে আসক্তি, বসে পড়াশোনা বা কাজ, ব্যায়াম, দৈহিক পরিশ্রম না করায় স্থূলত্ব বাড়ছে। এর সঙ্গে জাঙ্কফুড খাওয়ায় জাঙ্কফুডের টক্সিন ক্ষতি করছে স্পার্মের। স্পার্মের কোষ ডেলিকেট হওয়ায় অতিরিক্ত তাপমাত্রা, ক্ষতিকর রাসায়নিক বা টক্সিন, ধূমপান, স্থূলত্ব হ্রাসের ওষুধ ইত্যাদির প্রভাবে এবং অবসাদের জন্য কাউন্ট কমে যায়। আবার কাউন্ট ঠিক থাকলেও তার গতি কমতে পারে। এর থেকেই আসে মেল ইনফার্টিলিটি। এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে সৃষ্টি যে প্রশ্ন চিহ্নের মুখে পড়বে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।



দ্বিতীয় ক্ষতিকারক দিক হ’ল অবসাদগ্রস্ততা। আজকের দিনে এটা এক ভয়ঙ্কর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবনযাত্রা ও তার পাশাপাশি আমাদের খাদ্যাভ্যাস অবসাদকে ডেকে আনায় অনুঘটকের কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মনের অবস্থার ওপর অবশ্যই আমাদের খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব পড়ে। আমরা কী খাচ্ছি তা আমাদের অবসাদের মাত্রাকে বাড়িতে বা কমিয়ে আনে। কারও ক্ষেত্রে নতুন করে অবসাদকে ডেকে আনে। গবেষণায় দেখা গেছে অবসাদগ্রস্ত মানুষেরা ভোজন বিলাসী হয় এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করে। এর প্রভাব থেকে কম বয়সী ছেলে মেয়েরাও মুক্ত নয়। ইদানিং কালে প্রায়শই দেখা যায় কিশোর-কিশোরীরা উচ্চমাত্রার উদবিগ্নতা ও বিষণ্ণতায় ভোগে। জাঙ্ক ফুডের মত কম স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এর অন্যতম কারণ। দিন দিন ফাস্ট ফুডের দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এবং জাঙ্ক ফুডের সহজলভ্যতার কারণে আমাদের খাদ্যাভ্যাস নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। অতিরিক্ত চিনি, ক্যাফেইন এবং ক্যালোরি গ্রহণের ফলে শরীরের উপর খারাপ প্রভাব পড়ছে এবং কর্মশক্তি অনুভব করা ও জীবন সম্পর্কে উৎসাহী হওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ছে। এধরনের প্রভাবকগুলোর কুপ্রভাবকে দূরে সরিয়ে দিয়ে ভবিষ্যতের লক্ষ্যে স্থির থাকা, কাজ করার উৎসাহ পাওয়া এবং কাজে মনোযোগী হওয়ার জন্য কিশোর- কিশোরীদের ক্রমবর্ধমান উদ্বিগ্নতা ও অবসাদের বিরুদ্ধে  সংগ্রাম করতে হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরাও আশানুরূপ ফল করতে পারছে না পরীক্ষায় বা অন্যান্য ফিল্ডে।

ক্ষেত্রবিশেষে এই ক্রমবর্ধমান অবসাদের চাপ সহ্য করতে না পেরে অনেকে আবার আত্মহননের পথও বেছে নিচ্ছে। আমাদের খাবারের অভ্যাসের ফলেই শরীর মোটা-রোগা হয়। শরীরে পুষ্টি-অপুষ্টির ফারাক হয়। এইসবকিছুই অবসাদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পর্কিত।

জাঙ্ক ফুডের তালিকায় থাকা খাবারের মধ্যে এমন অনেক জিনিস থাকে যা থেকে আমাদের শরীর তার প্রয়োজনীয় পুষ্টিটা পায় না। ফলে এই জাতীয় খাবার শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলে। ডেকে আনে নানা মারণ ব্যাধি। এই ব্যাধির মধ্যে সবচেয়ে যে দুটোর বাড়বাড়ন্ত নজরে পড়ছে, তা কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া ও উচ্চরক্তচাপ। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় হাই-ব্লাডপ্রেশার। এর প্রাদুর্ভাব দিন দিন বাড়ছে। কমবয়সী মানুষও এর থেকে নিস্তার পাচ্ছে না। আমরা প্রায় সকলেই জানি যে এই দুই উপসর্গেই মানুষের জীবন সংশয় হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে। উচ্চ রক্তচাপের রুগীর যেকোনো মুহূর্তে সেরিব্রাল অ্যাটাক হ’তে পারে। কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধির কারণে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। ফল স্বরূপ অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর পক্ষাঘাত হয়। মুখের বোল চলে যায়। স্বাভাবিক জীবন নষ্ট হ’য়ে একটি জড় পদার্থের মত অসহায়ভাবে দিন কাটাতে হয় বিছানায়। রোগী ও তার পরিবার ভোগ করতে থাকে নরক যন্ত্রণা। মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত জীবন হয়ে ওঠে অসহনীয়।

জাঙ্ক ফুডের আরেকটি কুপ্রভাব হিসেবে যেটা সবার আগে মনে আসে তা হ’ল ডায়াবেটিস অর্থাৎ মধুমেহ। সমগ্র বিশ্বে এই রোগ এখন মহামারীর রূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিন হুহু করে বেড়ে যাচ্ছে এই রোগে আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা। যেহেতু এই অসুখকে ‘সাইলেন্ট কিলার’ বলা হ’য়ে থাকে, তাই সহজেই অনুমেয় যে এর কারণে একজন মানুষের জীবনে কোন্‌ কোন্‌ সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। রোগীর কর্মক্ষমতা কমে যায়। দৃষ্টি শক্তি হ্রাস পায়। শুধু কি তাই! কিছুকাল পর শরীরের যাবতীয় অরগ্যান ধীরে ধীরে বিকল হ’তে শুরু করে। এই অসুখে জর্জরিত রোগী ও তাঁর বাড়ির লোকেরা প্রবল দুশ্চিন্তা, অর্থনৈতিক চাপ ও মৃত্যুভয়ে দিন কাটায়। সুখী একটা পরিবারকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে এই রোগ। সবচেয়ে যেটা চিন্তার বিষয় সেটা হ’ল আজকাল অল্প বয়সীদেরও এই রোগে আক্রান্ত হ’তে দেখা যাচ্ছে। যার ফলে একটা জাতি গড়ে ওঠার আগেই ভেঙে পড়ছে তার মূল কাঠামো। এটা সমগ্র মানব সভ্যতার জন্য একটা অশনি সংকেত।

সারা পৃথিবীতে যে রোগের চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে দিনরাত গবেষণা চলছে, সেই ক্যান্সার বা কর্কট রোগেরও অন্যতম প্রধান কারণ হ’ল আধুনিক লাইফস্টাইলে জাঙ্ক ফুডের ওপর নির্ভরশীলতা। প্রতিদিনের কর্মব্যস্ত জীবনে আমরা সময়ের পেছনে ছুটে চলেছি। না আছে সময় নিজের জন্যও, না পরিবারের আর কারোর জন্য। ফলে সহজলভ্য পথ হিসেবে বেছে নিচ্ছি চটজলদি ও সুস্বাদু জাঙ্ক ফুডকে। আজকাল ছোট বড় শপিং মলগুলোতে গেলেই দেখা যাবে বাহারি প্যাকেটে নানান ইনস্ট্যান্ট বা প্রসেসড ফুড রাখা আছে। প্যাকেট বন্দী নুডলস, উপমা, পোহা, স্যুপ, পরোটা, সিঙ্গারা, নিমকি প্রভৃতি হাল্কা মুখরোচক খাবারের পাশাপাশি ডাল ফ্রাই ও শাহী পনীরের মত মেইন কোর্সের খাবারও পাওয়া যায়। বাড়ি এসে মাইক্রোওভেনে গরম করে নিলেই জিভে জল আনা দুর্দান্ত খাবার একেবারে প্লেটে পৌঁছে যাচ্ছে। যদিও প্রতিটা প্যাকেটের গায়ে পরিষ্কার লেখা থাকে তাতে কি কি প্রিজারভেটিভ দেওয়া আছে এবং কতদিনের মধ্যে খাবারটা ব্যবহার করে ফেলতে হবে। এই সমস্ত খাবারের যাবতীয় কুপ্রভাব জানা সত্ত্বেও আমরা নেশাগ্রস্তের মত ওগুলো খেয়ে নিই। যার ফলে কম বেশি আমাদের হার্ট, লিভার, কিডনি, পাকস্থলি – এই সমস্ত অরগ্যানই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তাই চটজলদি ফাস্ট ফুড নয়, আমাদের ফিরে যেতে হবে সেই পুরনো পদ্ধতিতে, যে পদ্ধতিতে ঘরের তৈরি খাবার খেয়ে  আমাদের পূর্বপুরুষেরা সুস্থ থেকেছেন। আমাদের সুস্থ থাকতে হবে, কর্মক্ষম থাকতে হবে এবং সেইসাথে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করতে হবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে। একটু হিসেব করে সময় ভাগ করে নিলেই ঘরে খাবার বানিয়ে নেওয়ার সময় পাওয়া যায়। আজকাল বিভিন্ন কুকিং ক্লাসে বা টিভি শোয়ে নানারকম চটজলদি খাবার বানানোর প্রণালী শেখার যথেষ্ট সুযোগ আছে। আমরা নিজেদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি আর ভালোবাসি আমাদের জীবনকে। তাই সুস্থ এবং দীর্ঘ জীবনের জন্য জাঙ্ক ফুডের অমোঘ হাতছানি থেকে মুক্তি পেতেই হবে। চাইনিজ এবং ইতালিয় খাবারে এখনকার জেনারেশন মজেছে। এই চিজ এবং ময়দার আধিক্য খাদ্যতালিকার একেবারে বাইরে রাখতে হবে। তাদের শেখাতে হবে কিভাবে দক্ষতার সাথে সময়কে ভাগ করে নেওয়া যায় নীরোগ থাকার প্রয়াসে। তাদের বোঝাতে হবে আধুনিকতা মানে আরও ভালোভাবে বেঁচে থাকার উপায় বার করা। জেনে বুঝে নিজেদের তথা সমগ্র মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া আধুনিকতা নয়।

 

বি.দ্র: লেখা সম্পর্কিত মতামত লেখিকার ব্যক্তিগত।

Facebook Comments