বালজিং ডিস্ক! এক অদ্ভুত হাড়ের সমস্যা

একটু বেশি বয়স হলে হাড়ের সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি হাড়ও দুর্বল হতে শুরু করে। কিন্তু বালজিং ডিস্ক এমন এক হাড়ের সমস্যা, তিরিশ পেরোতে না পেরোতেই বিপদ সম্মুখ শিয়রে দাঁড়াতে পারে। অস্থিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারী-পুরুষ যে কেউই এই অসুখের শিকার হতে পারেন। যাঁরা কায়িক পরিশ্রম করেন, মূলত ঝুঁকে কাজ করেন তাঁদের এই অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হয়।

বালজিং ডিস্ক কী

মেরুদণ্ডের দু’টি হাড়ের মাঝে শক অ্যাবসর্ভার (হঠাৎ ঝাঁকুনি সামাল দেওয়ার অংশ) হিসাবে নরম জেলির মতো থকথকে এক ধরনের পদার্থ থাকে। একে বলে ডিস্ক। তার বাইরে একটি পাতলা আবরণও থাকে। ঝুঁকে কাজ, ভারী কোনও কাজ, এমনকি, জোরে হাঁটতে গিয়ে বেকায়দায় পড়েও এই জেলির মতো অংশের আবরণ ফেটে গিয়ে ভিতরের জেলি বেরিয়ে যায়। সুষুম্নাকাণ্ডের উপর সেই জেলি তখন চাপ সৃষ্টি করে। ফলে শরীরের স্নায়ুর উপর চাপ পড়ে, ফলে শরীরের নানা অংশে খুব যন্ত্রণা হয়।

কীভাবে হয়

অস্থিবিশেষজ্ঞদের মতে, জেলি ফেটে বেড়িয়ে না এলে ব্যথা বোঝা যায় না। তাই এই অসুখের আক্রমণ হঠাৎই হয়।

কী দেখে বুঝবেন

কোমর থেকে পা পর্যন্ত ঝিনঝিনে, অসহ্য ব্যথা হবে। এই সমস্যায় অকারণে প্রায়ই কোমর, পা, পায়ের পাতা অবশ হয়ে যায়। এই ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে কোমরের ওপরেও। কাঁধ, ঘাড়, হাত এমনকি মাথাতেও। কিছু রোগী বালজিং ডিস্কে আক্রান্ত হলে স্টম্যাক বা বুকে ব্যথাও অনুভব করেন। যার ফলে তাঁরা এই সমস্যাকে হৃদরোগের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন।



চিকিৎসা

বালজিং ডিস্ক প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে সম্পূর্ণ বিশ্রামই এর খুব ভালো ওষুধ। বিশ্রামের সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো প্রয়োজনীয় ব্যায়ামও করা উচিত। কিন্তু এই অসুখ অবহেলা করলে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সাবধানতা

প্রধানত, পেটের সামনের দিকের ও পিঠের পিছনের দিকের কিছু ব্যায়াম এই অসুখের সম্ভাবনা কমায়। চিকিৎসকদের মতে এই অসুখ থেকে দূরে থাকতে বরাবরই ব্যায়াম ও মেডিটেশন অভ্যাস করা উচিত।

Facebook Comments