যে কারণগুলোর জন্য সম্পর্ক ভাঙে…

যে কোনও সম্পর্কই তৈরি হয় সারাজীবনএকসাথে চলার পরিকল্পনা নিয়ে। তবে কতদিন তার মেয়াদ, আদৌ আজীবন কিনা তা নির্ধারন করেসময়। শুধু কি সময় তা কিন্তু নয় আরও কিছু ব্যাপার তো আছেই। 

যে সম্পর্ককে তথাকথিত মধুরসম্পর্ক বলা যায় তা কি সবসময়ই মধুর থাকে? না এর সম্ভাবনা ফিফটি-ফিফটি। ধরুন বিয়ের বিষয়েই যদি বলি, প্রথম দিকে সম্পর্ক যেখানে মধুর ও সুন্দর, সেখানে পরের দিকে তা কেন তিক্ত ও বিরক্তিকর হয়ে ওঠে এ ব্যাপারে হয়তো একেক জনের একেক বক্তব্য থাকতেই পারে। তবে নিদিষ্ট কিছু ফ্যাক্টর সবারই ম্যাচ করে। তবে শুধু বিবাহিত জীবন নয়, সব ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রেই তিক্ততা আসতে পারে। যে ফ্যাক্টরগুলোর জন্য মধুর সম্পর্কে তিক্ততা আসে আসুন সেগুলো নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।

মানসিকভাবে প্রতারণা : পার্টনারদের একজন হয়তো মানসিকভাবে আরেকজনের ওপর খুবই নির্ভরশীল। আর সেই সুযোগে অন্যজন তাকে যখন তখন যেকোনও কাজে ব্যবহার করছেন। বিশ্বাসের খাতিরে সেও হয়তো অন্যজনের সব কাজই করে দিচ্ছে। কিন্তু যখন সে জানতে পারবে, সে প্রতারিত হচ্ছে, সে ঐ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসবে।

গোপননীয় কিছু ফাঁস হওয়া : জীবনে বিশ্বাসবড় দামী জিনিস। আপনাকে অনেকেই বিশ্বাস করে নিজের ব্যক্তিগত বিষয়, বন্ধু-বান্ধব,পরিবারের সদস্য সম্পর্কে নানান গোপনীয় কথা বলতে পারেন। যিনি বলেন তিনি আপনাকে বিশ্বাস করেই এসব বলেন। কিন্তু সেসব কথাপ্রকাশ্যে সবার সামনে আনলে, ওই ব্যক্তি সবার সামনে হাসির পাত্রে পরিণত হতে পারেন। এরপরই আপনি ঐ ব্যাক্তির বিশ্বাস হারাবেন, তিনি আর কোনোদিন আপনাকে বিশ্বাস করতে পারবেন না।

হঠাৎ হঠাৎ ‘সিন ক্রিয়েট’ করা : আমাদের আশপাশে অনেকরকম মানুষ থাকেন। সব মানুষের সবকিছুই ভালো লাগবে এমনটা হতে পারেনা। কিন্তু তা বলে যেখানে সেখানে তা নিয়ে ‘সিন ক্রেট’করাও ঠিক নয়। অনেকেই আছেন রাস্তাঘাট বা পাবলিকপ্লেস মানেন না যেখানে সেখানেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এসব করে তিক্ততা বাড়ে, সলিউশন কিছু বেরোয় না। বরং কোন জিনিসটি আপনার প্রিয় মানুষটির ভালো লাগে না, কেন লাগে না তা যাচাই করে সমাধানে আসতে পারেন। ব্যাপারটা অনেক সহজ হবে।

আসক্তি গোপন করা: আসক্তি প্রত্যেকটা মানুষেরই থাকে। একজন ব্যক্তি নানা ধরনের নেশায় যেমন ধূমপান, অ্যালকোহল, মদ, খাদ্য, ফোনে আসক্ত থাকতে পারেন। তা বলে এসব কিন্তু কাছের মানুষদের কাছে গোপন করা ঠিক নয়। আপনি হয়তো তা গোপন রাখেন অথচ তারা তা টেরপেলে নিমিষেই আপনার সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। আর তাছাড়া আপনার কোনও বদভ্যাস হয়তো তারা আপনাকে ছেড়ে দিতে বলেছে, কিন্তু আপনিও তা না ছেড়েই ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। ব্যাপারটা যদি জানাজানি হয় তবে মধুর সম্পর্কে আজীবনের জন্য ছেদ পড়তে পারে।

স্বার্থপরতা: সম্পর্ক তৈরি করা সহজ, কিন্তু টিকিয়ে রাখা কঠিন। যেকোনো কাজে শুধু নিজের স্বার্থটাই দেখবেননা। আপরের স্বার্থকেও মূল্যায়ন করুন। অপরের স্বার্থ সুরক্ষিত হলেই আপনার উপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। যদি কেউ জানতে পারেন, আপনি চরম স্বার্থপর তখন কিন্তু কারও সঙ্গে আপনার সম্পর্ক টিকে থাকা মুশকিলহবে।



বিপদের সময় পাশে না থাকা : সম্পর্ক বড় কঠিন জিনিস। কারো সঙ্গে ধরুন আপনার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। হঠাৎ ওই ব্যক্তি বিপদে পড়লেন। সাহায্যের জন্য আপনার শরনাপন্ন হলেন। কিন্তু দেখা গেল, তার বিপদের কথা আপনি শুনতেই চাইলেন না, বা শুনেও এড়িয়ে গেলেন। তাহলে কিন্তু সেই বিপদ থেকে সে উদ্ধার পাক আর না পাক কখনোই তিনি আর আপনার সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে না। তার চেয়ে বড় তাকে নিজের সামর্থ অনুযায়ী সাহায্য করুন, না পারলে আপনার সামর্থের কথা জানিয়ে দিন খোলাখুলি আর ঐ বিপদ থেকে বেরিয়ে আসার জন্যতাঁকে মানসিক শক্তি জোগান।

Facebook Comments