অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর সাক্ষাৎকার


পালক মিডিয়া: অভিনয়ের জগতে কীভাবে এলেন?
বিশ্বজিৎবাবু: আমাদের পরিবারে নাটক করার একটা শখ বা সাধ ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছি। আমার বাবা পেশায় ডাক্তার ছিলেন কিন্তু নাটক করতে ভালোবাসতেন। পেশাগতভাবে অবশ্য কখনও নাটক করেননি। কিন্তু সাউথ ক্যালকাটা ডক্টরস ক্লাবে, মেডিকেল কলেজ ইউনিয়নে কত জায়গাতে অভিনয় করেছেন। এসব থেকেই আমার অনুপ্রেরণা। আঁকার ঘরে নাটক শুরু করে সেখান থেকে পাশের বাড়ির দালান তারপর পাড়ার মাঠে প্রোমোশন পেয়ে যাওয়া, এই করতে করতেই অভিনয়ে এগিয়ে যাওয়া। আমরা যখন কলেজে পড়তাম তখন একজন মোটামুটি রুচিশীল বাঙালী ছেলে তিনটে জিনিসের মধ্যে অন্তত দুটো জিনিস করতো। কবিতা লেখা, নাটক করা এবং প্রেম করা। ফলত নাটক করাটা আমাদের যৌবনের নিত্যসঙ্গী ছিল। এরপর ধীরে ধীরে একটা দল তৈরি করা। তখন আমরা তো আকাদেমিতে স্থান পেতাম না বা সে সামর্থও ছিল না। মুক্তাঙ্গন ভাড়া করে নাটক করা- এসব চলতো। এভাবেই চলতে চলতে…

পালক মিডিয়া: আপনার ছোটবেলা কি কলকাতায় কেটেছে?
বিশ্বজিৎবাবু: হ্যাঁ।

পালক মিডিয়া: আপনার ছোটবেলা সম্পর্কে কিছু বলুন…
বিশ্বজিৎবাবু: যেহেতু শহরেই জন্মেছি, গ্রামের উত্তেজনা তেমন পাইনি। আমাদের ছেলেবেলা একটু অন্যরকম ছিল। এত পড়ার চাপ ছিল না আজকের মতো। আমাদের বিকেলটা ছিল স্কুল থেকে বাড়ির ফিরে রোজ খেলতে যাওয়ার, হৈচৈ করার। যে কোনও অনুষ্ঠানে আমরা খুব হৈ-হুল্লোড় করতাম।

পালক মিডিয়া: স্কুল বা কলেজ জীবনে যখন নাটক করতেন, সেই সময়কার কিছু ঘটনা যদি আমাদের সাথে ভাগ নেন…
বিশ্বজিৎবাবু: স্কুলে পড়াকালীন সময়ে আমি নাটকে অভিনয় করার সুযোগ পেতাম না, কারণ তখন স্কুলে অনেক ভালো ভালো অভিনেতা ছিল। এখন অ্যাকাডেমিতে যখন রিইউনিয়ন নাটক হয় তখন আমি অভিনয় করি। আমার স্কুলের বন্ধুরা অনেক বেশি কৃতী ছিল অভিনয়ে। তাই আমি দর্শক হিসেবেই দেখতাম। তবে কলেজ লাইফেই প্রথম একটা নাটকে অভিনয় করি। পরে কলেজের বন্ধুরা মিলে একটা দলও তৈরি করেছিলাম আমরা।    

পালক মিডিয়া: সেই সময় থেকেই কি পাকাপাকিভাবে অভিনয়ে চলে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?
বিশ্বজিৎবাবু: না, সেভাবে কখনও ভাবিনি। আমি একটু মনযোগী ছাত্র ছিলাম। পড়াশোনাটা করতাম। ফিজিক্সে অনার্স ছিল। পড়ার পিছনে বেশ খানিকটা সময় দিতে হত।

পালক মিডিয়া: এখন পর্দার অভিনয়ের পাশাপাশি নাটকেও কি সময় দিচ্ছেন সেভাবে?
বিশ্বজিৎবাবু: না, সেভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। ক-বছর আগে যাত্রা করেছি। আর যাত্রা করলে নাটক করা যায় না।

পালক মিডিয়া: নাটক, যাত্রা, চলচ্চিত্র বা টিভি সিরিয়াল এগুলোর মধ্যে যদি কোনও একটাকে বেছে নিতে বলা হয়, আপনি কোনটি বেছে নেবেন?
বিশ্বজিৎবাবু: তেমনটা আমি ভাবিনি কখনও। আমার মনে হয় আমি অভিনয়টাকে বেছে নিয়েছি অভিনয়টা করবো। কোন প্ল্যাটফর্মে অভিনয় করছি সেটা বড় কথা নয়। আমি অভিনয় করতে ভালোবাসি সেখানে আমার কোনও প্রেফারেন্স নেই। যে কাজটা আসে সেটাকে আমার যেটুকু সীমিত ক্ষমতা তা দিয়ে ভালো করার চেষ্টা করি।



পালক মিডিয়া: অভিনয় জীবনে এমন কোনও ঘটনার কথা বলুন যা পনাকে আজও নাড়া দেয়।
বিশ্বজিৎবাবু: আমি একবার নেতাজির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলাম। নেতাজির বাড়িতেই তার শুটিং হয়েছিল। সেখানে নেতাজির ব্যবহার করা সামগ্রী ব্যবহার করেছিলাম, যেটা একটা ভীষণ চমকপ্রদ অভিজ্ঞতা।

পালক মিডিয়া: আপনি তো অনেক পরিচালকের সাথেই কাজ করেছেন। কার সাথে কাজ করতে সবথেকে বেশি ভালো লাগে?
বিশ্বজিৎবাবু: অভিনয়টা আমি আমার ক্ষমতার একশোভাগ দিয়ে করি। এমন নয় কোনও চরিত্র বেশি পছন্দ হলে সেটা বেশি মনোযোগ দিয়ে করি। আমি ঋতুপর্ণ ঘোষের ফ্লোরে যতটা মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছি, স্বপন সাহার ফ্লোরেও তাই করেছি।

পালক মিডিয়া: অবসর অনেক কম পান জানি। তবু জানতে চাইবো অবসর সময় কীভাবে কাটান?
বিশ্বজিৎবাবু: যেটকু অবসর পাই পরিবারের সাথে সময় কাটাই। কখনও বই পড়ি।

পালক মিডিয়া: এত ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের সময় দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
বিশ্বজিৎবাবু: তোমাদের জন্য শুভকামনা রইল।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: সৌমিক ব্যানার্জী
সৌজন্যে: নবাঙ্কুর পত্রিকা

Facebook Comments