‘বেরং’- স্বল্প পরিসরে অনবদ্য উপস্থাপনার একটি ছবি

প্রগতিশীল আধুনিক মানবসভ্যতার সামনে সবচেয়ে বড় বিপদ হলো পরিবেশ দূষণ। বিষয়টা নিয়ে বিস্তর কাজ হয়ে থাকলেও ‘বেরং’ কিন্ত একেবারে সতন্ত্র। ‘বেরং’এর মাধ্যমে যেন আয়না তুলে ধরা হয়েছে অতীত এবং বর্তমানের পাপে জর্জরিত অভিশপ্ত ভবিষ্যতের সম্মুখে। প্রথমেই প্রশংসা করতে হয় সুশান্ত সরকারের যুগের থেকে এগিয়ে থাকা চিন্তা ভাবনার, যা এই ছবির গল্প, চিত্রনাট্য এবং সংলাপের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। ঋষি ভট্টাচার্যের নির্দেশনায় শর্ট ফিল্ম ‘বেরং’-এর ট্রিটমেন্ট এক কথায় অসাধারণ। সমুদ্র সৈকতে বসে থাকা এক নারী আর পুরুষের কথোপকথন দিয়ে শুরু এই ছবি। একান্ত নিভৃতে তাদের কথার মাধ্যমে ফুটে উঠেছে বিচ্ছেদের অনুশোচনা এবং ব্যর্থ প্রেমের গভীর বিষাদ। গল্প এগিয়ে চলার সাথে নিপুণভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে এক রহস্যময় পরিমণ্ডল। উত্তাল সমুদ্রের হলদে রঙ আভাষ দেয় কোনো অজানা অশনি সংকেতের। ভেসে আসে ঢেউয়ের আওয়াজ মেশানো এক রহস্যময় যান্ত্রিক ধ্বনি। পুরুষটির নাম বেরং আর মেয়েটির নাম সাইরা। হঠাৎ আগমন ঘটে আরেক পুরুষের। সে গভীর আকুতিসহ কিছু একটা চায় বেরং-এর কাছে। বেরং ইতস্তত করে। লোকটি হতাশায় টলতে টলতে চলে যায়। পরে অবশ্য বেরং সেই জিনিসটা তার ভালোবাসা সাইরার হাতে তুলে দেয়। সাইরা বেরং-এর ত্যাগ দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায়। কি সেই জিনিস? যা অতি সন্তর্পণে আগলে রেখেছিলো বেরং তার সাইরার জন্য?

Follow Us on facebook :


আট মিনিটের এই শর্টফিল্ম মনটা ঝাঁকিয়ে দিয়ে, মাথায় একরাশ চিন্তা ঢুকিয়ে যায়। নিঃসন্দেহে Tech Touch Entertainments-এর একটি মাস্টারপিস কাজ হলো এই ‘বেরং’। ছবিটি ইতিমধ্যে নানান মহলে সাড়া ফেলেছে। পুরস্কৃত হয়েছে 4th Sutanuti Documentary & Short Film Festival এবং Model N Movie International Short Film Festival এ। বিভিন্ন ভূমিকায় প্রত্যেকের অভিনয় যথাযথ, বিশেষ উল্লেখযোগ্য ঋষি এবং জাহ্নবী। সাউন্ড মিক্স আর এডিটিং-এর সঙ্গে সিনেমাটোগ্রাফার সুবীর মন্ডলকে আলাদা করে তারিফ করতে হয় বিশেষ কিছু ক্যামেরা এঙ্গেলের জন্য। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে সুশান্ত অনবদ্য। আজকের দিনে এমন শিল্প চেতনাযুক্ত সমাজিক বার্তাবাহক সিনেমার বড়ই অভাব, সেখানে এই ধরণের কাজকে সাধুবাদ জানাতেই হয়।

Facebook Comments